কুয়াশা, এক সাবমেরিন এবং একজন অকুতোভয় কোস্ট গার্ডস ম্যান!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালের ১৩ জুন রাত। নিউ ইয়র্কের আমাগানসেট সমুদ্র সৈকতে কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারে একা টহল দিচ্ছিলেন মার্কিন কোস্ট গার্ডের তরুণ সি-ম্যান জন সি. কালেন। তার হাতে ছিল না কোনো বন্দুক, ছিল না কোনো আধুনিক অস্ত্র—শুধু ছিল একটি ফ্ল্যাশলাইট। কিন্তু সেই রাতেই তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ইতিহাসের এক রোমহর্ষক ঘটনার।

রাত তখন প্রায় বারোটা। বালির ওপর দিয়ে হাঁটার সময় জন কুয়াশার মধ্যে অস্পষ্ট কিছু দেখতে পান। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো কেউ বালু চুরি করছে বা চোরাকারবারি, কিন্তু কাছে যেতেই তিনি চমকে ওঠেন। সমুদ্রের দিক থেকে উঠে আসা চারটি মানুষ, তাদের পরনে জার্মান ইউনিফর্মের ওপর সাধারণ পোশাক। ঠিক তখনই জন বুঝতে পারেন, সৈকতের একটু দূরেই পানির নিচে লুকিয়ে আছে একটি জার্মান সাবমেরিন!

জন বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি একা। নাৎসিরা তাদের অস্ত্র বের করে এবং জনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। তারা তাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিল যাতে তিনি কাউকে কিছু না বলেন। কিন্তু জন অকুতোভয় ছিলেন। তিনি পরিস্থিতি বুঝে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে সরাসরি তার স্টেশনে ফিরে যান এবং দ্রুত এই ভয়ংকর খবরটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

জন কালেনের এই সাহসিকতা এবং সতর্কবার্তা আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-কে সক্রিয় করে তোলে। জানা যায়, এটি ছিল হিটলারের পাঠানো 'অপারেশন পাস্টোরিয়াস'—যার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নাশকতামূলক হামলা চালানো। জন কালেনের সেই দ্রুত বুদ্ধির কারণেই এই ভয়ংকর পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায় এবং নাৎসি এজেন্টদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

জন কালেন আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে, সাহস প্রদর্শনের জন্য সবসময় আধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং অসীম সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে গেলে যেকোনো বিপদ মোকাবিলা করা সম্ভব। ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে সেই তরুণ কোস্ট গার্ডের নাম, যিনি এক হাতে ফ্ল্যাশলাইট নিয়ে নাৎসি বাহিনীর পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।

মন্তব্যসমূহ