জ্বালানী ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার বিষয়ক একটি মাঠ গবেষণা
প্রকাশকাল
আগষ্ট ২০১৪
গবেষণা সংকলন ও সমন্বয়কারী
মো. এরশাদ আলী
সহযোগী সংকলন ও সমন্বয়কারী
সুকান্ত সেন
মো. জাহাঙ্গীর আলম
সিলভানুস লামিন
বারসিক
বাড়ি-৫০, রোড-১৬ ( পুরাতন-২৭)
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯
গবেষণা কর্মে অংশগ্রহণকারী গবেষকদের নামের তালিকা
ক্স মো. এরশাদ আলী, সহযোগী সমন্বয়কারী,বারসিক
ক্স মো. জাহাঙ্গীর আলম, সমন্বয়কারী, বারসিক
ক্স এ এস এম ইউনুছ আলী, তৃণমূল গবেষক।
ক্স আতিয়া আফরিন , নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ক্স মো. জাকারিয়া, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স ববিতা খাতুন , নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স মো. হাসানুজ্জামান, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স মাহমুদুর রহমান খান, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স আহসানুল কবির লিখন , নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স কানিজ ফাতেমা, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স মো. তাসলিম আনোয়ার, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স মো. মোস্তফা কামাল, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স মাসুদুল হাসান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স রেজাউল ইসলাম , নৃবিজ্ঞান বিভাগ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স হারুন-আর-রশীদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স রায়হানুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স শাকিলা শারমিন, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স মুসফিকুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স মো. শরিফুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স জুয়েল রানা কুতুব, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স রাফাতুল ইসলাম, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
ক্স তানিয়া শারমিন,বারসিক, ঢাকা।
ক্স সুস্মিতা দাশ, ফার্মেসী বিভাগ,ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্স শংকর ম্রং ,বারসিক, নেত্রকেকোণা।
ক্স ফজলে রাব্বি, বারসিক, নেত্রকেকোণা।
ক্স পার্বতী রানী সিংহ, বারসিক, নেত্রকেকোণা।
ক্স দিপন রেমা, বারসিক, নেত্রকেকোণা।
ক্স সিদ্দিকূর রহমান, বারসিক, নেত্রকেকোণা।
সূচিপত্র
প্রথম অধ্যায়
জ্বালানী সবখানে
শ্বাস প্রশ্বাস এর মতোই দরকারি ও প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি
দ্বিতীয় অধ্যায়
গবেষণা এলাকা : সেন্টমার্টিন থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
বাংলাদেশের ৬০ অঞ্চল
মোট : ৬৭০টি পরিবার
গবেষণা পদ্ধতি
তৃতীয় অধ্যায়
গ্রামীণ বিদ্যূতায়ন ঃ গবেষিত অঞ্চলে বর্তমান অবস্থা
বর্তমান বিদুৎ চাহিদার সামগ্রিক অবস্থাকে ঘাটতি বলা ভুল হবে।
(সূত্র: ১৪টি উপজেলার ২৮টি দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত)
চতুর্থ অধ্যায়
বায়োমাস ঃ বাংলাদেশের জ্বালানি সংষ্কৃতির প্রধান উৎস
১৪ উপজেলার মোট ৭০জন দরিদ্র নারী জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জ্বালানীর (রান্না ও আলো জ্বালানো কিছুটা সংগ্রহ করতে পারলেও অনেক কিছুই তাদের বাজার থেকে কিনতে হয়।
৫ম অধ্যায়
প্রচলিত চুলা এবং উন্নত চুলা ঃ আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন
৬ষ্ঠ অধ্যায়
সোলার হোম সিস্টেম
সূর্যই শক্তি, ধনীদরিদ্রের জ্বালানীবন্ধু
সৌর সেচ প্রকল্প: কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে সম্ভাবনা যাচাই
সৌর জ্বালানি ঃ আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ
সপ্তম অধ্যায়
পরিকল্পনা ও পরামর্শ
শেষ অধ্যায়
উপসংহার
সংযুক্তি
তথ্যসূত্র
প্রথম অধ্যায়
জ্বালানী সবখানে
শ্বাস প্রশ্বাস এর মতোই দরকারি ও প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ও শক্তির উপযোগিতার কথা বলে শেষ করার মত নয়। শ্বাস প্রশ্বাস এর মতোই দরকারি ও প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি। বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সরঞ্জামাদি যোগানের জন্য বাড়ছে শিল্প, যানবাহন, আর সেই সাথে বেড়ে চলেছে জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না অনবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শক্তির যোগান। উল্লেখ্য যে, অনবায়নযোগ্য জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ আস্তে আস্তে ফুরিয়ে যাবার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বায়োমাস, সৌর শক্তি, বায়ুশক্তি আবহমানকাল থেকে বিশেষভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের আওতা বর্হিভুত অঞ্চলগুলোতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রান্নার ক্ষেত্রে বায়োমাস এর ব্যবহার এবং বিভিন্ন রকমের শস্য, মৎস্য ও কাপড় শুকানোর ক্ষেত্রে সৌর শক্তির ব্যবহার সবার কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত। অফ গ্রিড এলাকাগুলোতে সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) এর মাধ্যমেও জ্বালানি উৎপাদন করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু হাঁস-মুরগি ও দুগ্ধ খামারে বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং এখান থেকে উৎপাদিত জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সৌর বিদ্যুৎ এর বিস্তৃত ব্যবহার বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ডিজেল ও বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরতার চাপ অনেকাংশ কমাতে সক্ষম হবে। বর্তমানে সীমিতভাবে ব্যবহৃত বিভিন্ন নাবয়নযোগ্য জ্বালানিগুলো হলো- জলবিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস যেমন- জ্বালানি কাঠ, ধান, তুষ ইত্যাদি। ২০০৯ সাল থেকে এটি স্পষ্টত প্রতীয়মান যে, সহজলভ্যতার কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি মূলত একক-জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। প্রায় ৮৯% জ্বালানির সরবরাহ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আর বাকি চাহিদা মেটানো হয় তরল জ্বালানি, কয়লা এবং জলবিদ্যুৎ থেকে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশভাগ মাত্র ০.৫%। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির লক্ষ্য অনুযায়ী (ঘধঃরড়হধষ জবহবধিনষব ঊহবৎমু চড়ষরপু) ২০১৫ সালের মধ্যে ৫% এবং ২০২০ সালের মধ্যে ১০% জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস হতে উৎপাদিত হবে।
বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি (ঘধঃরড়হধষ জবহবধিনষব ঊহবৎমু চড়ষরপু) অনুমোদন করে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানির কার্যকারিতা উন্নয়ন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ১০ ডিসেম্বর ২০১২ সালে সাসটেন্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ঝঊউঅ) আইন পাস করে যা ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ৫% থেকে ১০% এ উন্নীত নিশ্চিত করতে একটি বড় ধরনের উদ্যোগ। বিভিন্ন ধরনের গবেষণা পরিচালনা করা ও একাডেমিক কোর্স যেমন- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির উপর এমএস, এমফিল, পিএইচডি করার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অফ রিনিওয়েবল এ্যানার্জি (ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ জবহবধিনষব ঊহবৎমু) চালু করেছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকার, এনজিও, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার অফ গ্রিড এলাকায় অবস্থিত জনগোষ্ঠির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বর্তমান জ্বালানির বিকল্প উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রেখে বর্তমান সরকার পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্লান (২০১০) তৈরি করেছে যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানির কার্যকারিতা ও জ্বালানি সংরক্ষণকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গ্রামীণ অঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তির যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। যদিও বিভিন্ন এনজিও প্রয়োজনীয় গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহকগণ প্রয়োজনীয় কারিগরি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। বিভিন্ন এনজিও সৌর শক্তি কর্মসূচিকে একটি নতুন ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি হিসেবে পরিচালনা করছে ফলে তুলনামূলকভাবে দাম বেশি হওয়ার কারণে অফ-গ্রীড এলকার দরিদ্র-নি¤œবিত্ত জনগণ খুব সীমিত পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা ভোগ করছে এবং গ্রাম এলাকার একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
গবেষণা এলাকা : সেন্টমার্টিন থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
বাংলাদেশের ৬০ অঞ্চল
মোট : ৬৭০টি পরিবার
চর
কালাসোনার চর, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা । পাটগ্রাম, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ । চরকাবিলপুর, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা
পাহাড়
লেঙ্গুরা, কলমাকন্দা, নেত্রকোণা। হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার
ভৈরফা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি। নিরালা পুঞ্জি, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
বরেন্দ্র
নাচোল, চাপাইনবাবগঞ্জ। বাবুডাইং, গোদাগাড়ী, রাজশাহী
তানোর, রাজশাহী । মান্দা, নওঁগা
হাওর
হামলাদীঘা হাওর, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ। শনির হাওর, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ
ঘুইঙ্গাঝুরি হাওর, হবিগঞ্জ। ধলা, তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ
বাগড়া হাওর, আটপাড়া, নেত্রকোকাণা
উপকূল
গাবুরা, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা। গঙ্গারামপুর, বটিয়াঘাটা, খুলনা
কয়রা, খুলনা । পাথরঘাটা, বরগুণা
মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। লালমোহন, ভোলা
সীমান্ত অঞ্চল
ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। কলমাকান্দা, নেত্রকোণা
টেকনাফ, কক্সবাজার। গোয়াইনঘাট, সিলেট
হরিপুর, ঠাকুরগাঁও। মুজিবনগর, মেহেরপুর
দ্বীপ
শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, কক্সবাজার। সন্দীপ, নোয়াখালী
সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, কক্সবাজার । রাঙাবালী, গলাচিপা, পটুয়াখালী
শহরতলী ও বস্তি
মোহাম্মদপুর, ঢাকা। কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা
ময়লাপোতা, খুলনা। ভাসানটেক, ঢাকা
আমিনবাজার, ঢাকা। বছিলা, ঢাকা
স্বপনের বস্তি, রায়ের বাজার, ঢাকা। লুটেরচর, সাভার, ঢাকা
ঘাটারচর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। বৌবাজার, হাজারীবাগ, ঢাকা
ভৌগলিক অবস্থানগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অফ গ্রিড এলাকায় অবস্থিত নির্ধারিত ৬০টি (ঢাকা শহরের বস্তিসহ) অঞ্চলে বিশেষভাবে বাতি জ্বালানো ও রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য বর্তমান জ্বালানির উৎস, জনগণের মতামত ও চিন্তা, পরিকল্পনা এবং কৌশল জানার জন্য গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়। এই নির্ধারিত ৬০টি এলাকায় জ্বালানির উৎস ও সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা বুঝার জন্য মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে গবেষণাধীন এলাকাগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে অপচয় রোধে সচেতনতামূলক তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আগ্রহী জনগোষ্ঠি ও সংগঠনের সাথে যৌথ উদ্যোগে বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠির নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে প্রবেশাধিকারকল্পে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট এলাকার জন্য একটি কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান গবেষণা কর্মটি বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলা, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা, কুড়িগ্রামের ভূরঙ্গামারী উপজেলা, ঠাকুরগাঁও এর হরিপুর উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশেনের মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত বস্তিতে পরিচালিত হয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি ঃ
গবেষণায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় প্রকার উৎস থেকে সংখ্যাবাচক ও গুণবাচক উভয় প্রকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংখ্যাবাচক ও গুণবাচক উভয় প্রকার তথ্য সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে গবেষণা ফলাফল বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমান গবেষণা মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ওপর অধিক নির্ভরশীল। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণ, আনুষ্ঠানিক ও অআনুষ্ঠানিক সাক্ষাতকার, গবেষণা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় আলোচনা, জ্বালানি বিক্রি বা ব্যবহারকারিদের মধ্য থেকে বয়সের ভিত্তিতে অথবা জ্বালানি বিষয়ে অধিক জানে এমন ব্যক্তিদেরকে প্রধান তথ্যদাতা হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক কেসস্টাডি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা/জেলা পর্যায় থেকে সোলার হোম সিস্টেম, উন্নত চুলা ও বায়োগ্যাস প্লান্ট সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, মোট গ্রাহকের সংখ্যা বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে যা মাধ্যমিক তথ্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত। পূর্বে উল্ল্যেখিত প্রতিটি উপজেলাতে নির্দিষ্ট দুইটি ইউনিয়নে আধা-কাঠামোভিত্তিক প্রশ্নমালা জরিপের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংখ্যাবাচক ও গুণবাচক প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির সবচেয়ে বেশি সমস্যা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার হিসাব করে নির্দিষ্ট ২টি ইউনিয়নকে নির্ধারন করা হয়েছিল। মূলত বিদুৎ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারন করা ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোতে সার্বিকভাবে গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন হয়েছে।
গবেষণার উদেশ্যসমূহ ঃ
ক্স ভৌগলিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে অঞ্চলভেদে বর্তমান জ্বালানির উৎস, ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতাকে বুঝতে পারা;
ক্স নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ, মেরামত, কারিগরি সীমাবদ্ধতা দেখা এবং জ্বালানি সুবিধাভোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির প্রবেশাধিকার সুযোগ ও চাহিদা যাচাই করা;
ক্স অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনগণের মতামতের উপর ভিত্তি করে ‘‘আঞ্চলিক পরিকল্পনা” প্রণয়ন করা;
ক্স জ্বালানি ব্যবহার ও জ্বালানির অপচয় রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা।
তৃতীয় অধ্যায়
গ্রামীণ বিদ্যূতায়নের বর্তমান পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে গিয়ে বিদুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, জনাব নসরুল হামিদ বিপু বলেন, দেশব্যাপী জ্বালানি ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে, বৈষম্যের ফলে যাদের বিনামূল্যে বিদুৎ পাওয়া দরকার তারা তা পাচ্ছেনা। তিনি পরিকল্পিতভাবে বিদুৎ ব্যবহার করে এই সংকট সমাধানের তাগিদ দেন।
( তথ্য সূত্র: ‘নবায়নযোগ্য জ¦ালানী ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক পরামর্শ সভা, বিজয় হল, বিদুৎ ভবন মিলনায়তন, ১ আব্দুল গণি রোড, ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০১৪, আয়োজনে: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বারসিক) ।
বর্তমান গবেষণাটির ১৪ টি উপজেলার ২৮টি দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতে উঠে এসছে ‘বর্তমান বিদুৎ চাহিদার সামগ্রিক অবস্থাকে ঘাটতি বলা ভুল হবে’ উৎপাদন অনুযায়ী সমবণ্টন হচ্ছে না এবং উচ্চাবিলাসীতার ফলে বিদ্যূতের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গবেষণার পর্যবেক্ষণে বের হয়ে এসেছে সরকার যে সকল বিষয়ে প্রশংসার দাবি রাখেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদ্যুৎ এর মূল্য শ্রেণীভেদে আলাদা করা। আমাদের দেশের ধনীদের জন্য যে জ্বালানি ভর্র্তূকি দেয়া হচ্ছে সেই একই ভর্তূকি পাচ্ছে গরীবরাও। তবে অনাহত কিছু কারণে সমাজে জ্বালানী বৈষম্য ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রহিমা বেগম ( নিন্ম আয়ের পরিবার) এবং মো. এরশাদ আলীর পরিবারের জ্বালানী ও বিদ্যূৎ ব্যবহারের তুলনামূলক চিত্র নিন্মে তুলে ধরা হলো-
রহিমা বেগমের পরিবার
সদস্য-৭জন
পারিবারিক মাসিক আয়-৭,৫০০ টাকা
শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বরূপ-নিরক্ষর থেকে সর্বোচ্চ নবম শ্রেণী
বসবাস: স্বপনের বস্তি, রায়েরবাজার, সুলতানগঞ্জ, ঢাকা মো. এরশাদ আলীর পরিবার
সদস্য-৭জন
পারিবারিক মাসিক আয়-৫০,০০০ টাকা
শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বরূপ-এইচএসসি থেকে সর্বোচ্চ স্নাতকোত্তর
বসবাস: মোহাম্মদপুর হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
রান্না খাতে জ্বালানি খরচ
১. চুলা ক্রয় বাবদ (২টি/বাৎসরিক)-১২০০ টাকা
২. লাকড়ি (৪০কেজি/মাসিক)-১২০০ টাকা
৩. কেরোসিন বাবদ খরচ=৫০ টাকা
বিদ্যুৎশক্তির খরচ
১. টানালাইন (১টি বাতি+১টি ফ্যান)/মাসিক-৬০০ টা
২. বিদ্যুৎ চলে গেলে মাসে ১০টি মোমবাতি=৫০ টাকা
জ্বালানী খাতে মাসিক খরচ
২০০০ টাকা
বিদ্যুৎ দিয়ে এই পরিবার ব্যবহার করে :
১টি লাইট+১টি ফ্যান+১টি মোবাইল চার্জার
রান্না খাতে জ্বালানি খরচ
৪. চুলা ক্রয় বাবদ(এককালীন)-২৫০০ টাকা
৫. গ্যাসবিল (ডাবল চুলা)-৪৫০ টাকা
বিদ্যুৎশক্তির খরচ
৩. বিদ্যুৎ বিল=১০০০ টাকা
৪. আইপিএস খরচ (এককালীন)=২০,০০০ টাকা
৫. মোমবাতি খরচ=১০০ টাকা
জ্বালানী খাতে মাসিক খরচ
১৫০০ টাকা
বিদ্যুৎ দিয়ে এই পরিবার ব্যবহার করে : ১০টি লাইট+৩টি ফ্যান+৭টি মোবাইল চার্জ দেয়া+ল্যাপটপ-১টি+ডেস্কটপ-১টি+টেলিভিশন-১টি+ফ্রীজ-১টি+লন্ড্রি-১টি+একুরিয়াম+ক্যামেরা চার্জ
ধনী ও গরিব সকলের জন্য বিদ্যূতের ভতূর্কি দেওয়া হলেও কার্যতঃ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক মাসে সর্বসাকূল্য ৭৫০০ টাকা আয়ের রহিমা বেগমের পরিবার বসবাস করে রায়ের বাজার স্বপনের বস্তিতে যা ব্যাক্তি মালিকানাধীন একটি বস্তি। কম মূল্যের বিদ্যূৎ সুবিধা রহিমা বেগমের পাওয়ার অধিকার থাকলেও সে পাচ্ছে না। তাকে ব্যবহার করতে হচ্ছে অবৈধ্য টানা লাইন , একটি ফ্যার ও একটি লাইট ব্যবহার করেই বস্তির মালিককে মাসে ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে । বস্তিতে গ্যাস লাইন না থাকায় রহিমা বেগমকে লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। মাসে রান্নার কাজে প্রায় ১২০০ টাকার লাকড়ি প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে মাসে প্রায় ৫০০০০ টাকা আয় করা মো. এরশাদ আলীর পরিবার ১০ট লাইট ৩টি ফ্যান, ১টি টেলিভিশন সহ আরো অনেক কিছু ব্যবহার করেও মাসিক বিদ্যূৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে মাত্র ১০০০ টাকা এবং রান্নার জন্য ডাবল গ্যাসের চূলা ব্যবহার করেও গ্যাস বিল মাত্র ৪৫০ টাকা ।
গ্রামীণ বিদ্যূতায়ন ঃ গবেষিত অঞ্চলে বর্তমান অবস্থা
১,৩২,৩০৮ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নাচোল উপজেলার মোট আয়তন ২৮৩.৬৮ বর্গ কি.মি.। নাচোল উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন পল্লী বিদ্যূতায়ন কর্মসূচীর আওতাধিন। তবে মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৮.১৬% পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে (বাংলাপিডিয়া)। যে সব পরিবার এখনও বিদ্যূৎ সংযোগের আওতায় আসেনি তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আদিবাসী পরিবার অথবা নিন্ম আয়ভিত্তিক পরিবার। প্রাথমিক অবস্থায় বিদ্যূৎ সংযোগ নিতে হলে এককালিন বেশ কিছু টাকা খরচ হয় যা বহন করা নিন্ম আয়ভিত্তিক পরিবারগুলোর পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এছাড়া সরকারিভাবেও বিদ্যূৎ ঘাটতির জন্য নতুন কোন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নাচোল উপজেলার অধিকাংশ গ্রীড এলাকা। তবে কিছু নতুন বসতি-এলাকা এবং মূল গ্রাম থেকে বিছিন্ন এসব এলাকাগুলোর মধ্যে কতকগুলোর বিদ্যূৎ সংযোগ প্রক্রিয়াধিন। মূলত উপজেলাটি কৃষিভিত্তিক হওয়ার কারনে এ অঞ্চলে বিদ্যূৎ নির্ভর অসংখ্য ডিপ টিউবয়েল আছে। উল্লেখ্য উক্ত এলাকাটিতে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট মোকাবেলার অংশ হিসেবে কৃষিকাজের জন্য বিদুৎ আওতাধিন পরিবার বেশি দেখা যায়। যে কারনে দেশের দূর্যোগপূর্ণ এবং বিছিন্ন এলাকার মতো বিদ্যূৎ এর বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ তেমন দেখা যায় না।
ভূরঙ্গামারী উপজেলার চরভূরঙ্গামারী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী সবগুলো ইউনিয়নই আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে পল্লী বিদ্যুৎ সেবার আওতাধীন। চরভূরঙ্গামারী ইউনিয়নে বিদ্যুত না পৌঁছানোর কারন হিসেবে ভূরঙ্গামারী পল্লী বিদুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, চরভূরঙ্গামারী প্রত্যন্ত ও নদীর তীরবর্তী বা কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বিদুৎ পৌঁছানো বিলম্বিত হচ্ছে। তাছাড়া সরকারিভাবে যেসব এলাকায় রাজস্ব বেশি আশে সেখানেই বিদুৎ আগে দেওয়া হয়।
৮৮.৬৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের টেকনাফ উপজেলার বিদ্যুতের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৩৮৯১ জন। সর্বস্তরেরর মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম জহিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৬ তম অনুচ্ছেদ অনুসারে বিদ্যুৎ সকল নাগরিকের প্রজাতান্ত্রিক অধিকার। তবে একদিনে তো আর সব লাইন বসানো সম্ভব নয়, এটি একটি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া। তিনি আরো বলেন, বিদুতের চাহিদা সোলারে পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি তা অল্টারনেটিভ কারেন্ট আর সোলার হলো ডিরেক্ট কারেন্ট। ডিরেক্টকে অল্টারনেটিভ কারেন্ট এ রূপান্তর করার অনেক ব্যয়বহুল। তবে জ্বালানি ক্ষেত্রে সরকার যেভাবে ভর্তুকি দেয় ঠিক একইভাবে সোলারের মাধ্যমে বিদ্যূৎ উৎপাদনেও ভর্তূকি দিলে সম্ভব। যে সকল এলাকার মানুষ কেরোসিনের বাতিতে অভ্যস্থ, তাদের কাছে সোলারের বাতি অনেক বেশি গুরুত ¡পূর্র্ণ হতে পারে।
বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলা গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন। ফুলছড়ি উপজেলার সর্বমোট ৬০১০ জন গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ২.৫ মেগাওয়াট তবে বর্তমানে অনেকবেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৫ মেগাওয়াট। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে ৮০০০টি গ্রাহক নতুন সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যেসব এলাকাতে সংযোগ প্রদান করেনি বা সম্ভব না সেসব এলাকাতে পিডিবি সংযোগ প্রদান করছে বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট গ্রামের সংখ্যা ২৭১টি যার মধ্যে ১৯১টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে যা সর্বমোট ৬১৭.৯৮ কিঃ মিঃ লাইনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্য মতে, উপজেলার ৭২০২ জন গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ চাহিদা ৭ মেগাওয়াট কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ৫ মেগাওয়াট। অনুমোদিত ২৯৬ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত মোট গ্রাম ৩৯টি। বিদ্যুৎহীন এলাকাতে নতুন ১০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজ চলছে।
শ্যামনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্র এর দেওয়া তথ্যমতে, গবেষণাধীন এলাকা গাবুরা ও কৈখালী ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নেই। গাবুরা ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু ঘূর্ণিঝর আইলায় খুটিগুলোর বেশিরভাগই ভেঙ্গে গেছে।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরি আওতাধীন সর্বমোট ৬৪৪টি গ্রাম রয়েছে। এ পর্যন্ত সেপ্টেম্বর ২০১১ পর্যন্ত সংযোগকৃত গ্রাহকের সংখ্যা ১৪৪৭৮৮টি। সমিতির জিএম এর ভাষ্যমতে গবেষণাকৃত এলাকা মুজিবনগরের এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে বিদ্যুৎ এর সংযোগ প্রদান করা হয় নি। তবে চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ার কারনে চাহিদা অনুসারে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মুজিবনগর উপজেলা সমবায় অফিসে সংরক্ষিত একনজরে মুজিবনগরের তথ্যাবলীতে উল্লেখ্য আছে মুজিবনগর উপজেলায় মোট বিদ্যুতায়িত গ্রাম ৩২টি এবং মোট বিদ্যুতায়িত বাড়ির সংখ্যা ৭৯৮০টি ।
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা ভৌগলিক অবস্থানের কারনে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার থেকে আলাদা বৈশিষ্টের। পদ্মার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে সাধারন মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি বিদ্যুতহীন। বিদ্যুতের আওতাধীন ইউনিয়নগুলোও পুরোপুরি বিদ্যুতায়িত নয়।
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিল বিতরণকারি বাবুল জানান, ১১ হাজার গ্রাহক এর জন্য হাতিয়া উপজেলার চাহিদা ৫ মেগাওয়াট কিন্তু সরবারহ করতে পারে মাত্র ২০০ কিলোওয়াট। হাতিয়া উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা ছাড়া অন্য ১১ ইউনিয়নের কোথাও কোন বিদ্যুৎ নেই। তবে বিদ্যুৎবিহীন এলাকাতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার জন্য ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে হাতিয়ার বুড়ির চরে সাড়ে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্ভোধন করা হয়েছে যার কাজ ২০১৫ সালের মধ্যে শেষ হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজটি শেষ হলে ধারণা করা যায় ঘাটতি চাহিদা মিটবে। তবে হাতিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিঝুম দ্বীপ, চানন্দী এবং হরণি মেঘনা নদী বেষ্টিত হওয়ায় হয়তো কখনো জাতীয় গ্রিডে এই এলাকাতে সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়।
লোডশেডিং
কারেন্ট চলে যাওয়ার পরে.......
গবেষণাধীন এলাকাগুলোতে সর্বমোট ৬৭০টি পরিবারের তথ্য মতে দেখা যায়, বিদ্যূৎ অথবা সোলার আছে কিন্তু এর পরেও বিকল্প উৎস হিসেবে ৪২.৭ % পরিবার বাতি জ্বালানোর জন্য কোরোসিন, ৮.৪ % পরিবার চার্জকৃত ব্যাটারি, ২.২ % পরিবার চার্জার লাইট ব্যবহার করছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির অনেকেই মোবাইলের বিকল কয়েকটি ব্যাটারি একসাথে করে বিশেষ ধরনের চার্জার বানিয়ে নেয় যা দিয়ে জিরো বাল্ব জ্বলে। একবার এই ব্যবস্থাটি চার্জ দিলে দুই থেকে তিনদিন চলে। গবেষিত অঞ্চলে বাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে একটি অন্যতম উপায় হল কোরোসিন। বিশেষ করে বিদ্যুৎহীন এলাকায় বাতি জ্বালানোর জন্য কেরোসিন ছাড়া বিকল্প অন্য কিছু নাই। জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন এর অন্যতম সমস্যা হলো খরচ বেশি। এছাড়া আলো স্বল্পতা, বাতাস হলে বাতি নিভে যাওয়া ইত্যাদি।
টেবিলঃ ০১ ঃ বিকল্প জ্বালানির উৎস সমূহ
উৎস সংখ্যা (জন) (%) শতাংশ
কোরোসিন বাতি ২৮৬ ৪২.৭
ব্যাটারি ৫৬ ৮.৪
চার্জার লাইট ১৫ ২.২
গ্যাস/বায়োগ্যাস ৯ ১.৩
জেনারেটর ২৮ ৪.২
বায়োমাস ৯ ১.৩
বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে না ২৬৭ ৩৯.৯
সর্বমোট ৬৭০ ১০০.০
ঘর আলো করার জন্য বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে ৪.২ % পরিবারকে জেনারেটর ব্যবহার করতে দেখা যায়। ঘন ঘন লোডশেডিং এর জন্য বাংলাদেশের প্রায় সব উপজেলা শহর, বাজার এলাকা এবং বিশেষ করে দ্বীপ অঞ্চল ও দূর্গম এলাকাতে বিকল্প উৎস হিসেবে জেনারেটর বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার জেনারেটর ব্যবসায়ী মো. আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ১০ হাজার কিলোওয়াটের একটি মেশিন দিয়ে ৮ হাজার কিলোওয়াট আউটপুট পান। মো. আলম সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহ করেন। প্রায় ১২০টি প্রতিষ্ঠান ও পরিবারে তিনি বিকল্প বিদ্যুৎ সরারহ করে থাকেন। মেহেরপুরের মহাজনপুর গ্রাম কেন্দ্রিক বাজারের ব্যবসায়ীরা সোলার হোম সিস্টেম নেওয়ার আগে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আলো জ্বালানোর জন্য জেনারেটেরের সংযোগ ব্যবহার করত। জেনারেটর থেকে প্রদানকৃত বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। বাতি জ্বলুক আর না জ্বলুক প্রতিদিন একটি বাতির জন্য ৫ টাকা করে জেনারেটর ব্যবসায়ীকে দিতে হত। গবেষিত অঞ্চল চরভূরঙ্গামারীর নয়াহাটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে, আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে কেরোসিন বাতি জ্বালানোর জন্য, ডিজেল কৃষি সেচের জন্য এবং বায়োমাস রান্নার কাজে ব্যাবহার করে আসছে। তাদের প্রাত্যহিক জ্বালানির মধ্যে অত্যবশকীয় উপাদান হলো কেরোসিন এবং বায়োমাস।
বিদ্যুৎ লাইন : জটিলতার জটলা
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হলে একজন গ্রাহককে প্রায় ১৩টি ধাপ অতিক্রম করতে হয় এবং বেশ কিছু দলিলাদিও জমা দিতে হয়। স্বল্পশিক্ষিত ও কম আয়ের লোকের পক্ষে মিটার গ্রহণ ও সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এতগুলো অফিসিয়াল কার্যক্রম মেনে চলা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তাই যতদুর সম্ভব দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে জ্বালানি সহজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য পক্রিয়াগুলো আরো বেশি সহজ করা দরকার। শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ণে আয়োজিত একটি দলীয় আলোচনা থেকে উঠে আসে ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ লাইন নষ্ট হলে তা ঠিক করতে বিদ্যুৎ অফিসের দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্য করা যায়।
চতুর্থ অধ্যায়
বায়োমাস ঃ বাংলাদেশের জ্বালানি সংস্কৃতির প্রধান উৎস
১৪ উপজেলার মোট ৭০জন দরিদ্র নারী জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জ্বালানীর (রান্না ও আলো জ্বালানো) কিছুটা সংগ্রহ করতে পারলেও অনেক কিছুই তাদের বাজার থেকে কিনতে হয়।
দক্ষিন ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই বায়োমাস জ্বালানি গ্রামীণ পরিবারের স্থানীয় উৎস হিসেবে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই বায়ো শক্তির ব্যবহারকারী পাশাপাশি উৎপাদনকারীও। বাংলাদেশেও বেশিরভাগ গ্রামীণ পরিবারগুলো শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসেবে বায়োমাস ব্যবহার করে। গবেষণাকৃত মোট ৬৭০ পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগই শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসেবে রান্নার জন্য বায়োমাস ব্যবহার করছে যার পরিমান ৯৭.৫ %।
টেবিল ঃ ০২ ঃ রান্নার জন্য জ্বালানির উৎস
উৎস সংখ্যা (জন) % (শতাংশ)
বিদ্যুৎ ৮ ১.২
বায়োগ্যাস ৯ ১.৩
বায়োমাস ৬৫৩ ৯৭.৫
মোট ৬৭০ ১০০.০
বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণে জনগোষ্ঠির জ্বালানি চাহিদা নিবারনে বায়োমাস জ্বালানি বিশেষত ধানগাছ, গোবর, গাছের ডালপালা, লতা-পাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যেকোন গাছ জন্ম নেবার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। আবার গাছ বৃদ্ধি ও পশুর জীবন ধারনের জন্যও প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। ভৌগলিক অবস্থানগত কারনেই বাংলাদেশ প্রচুর নদীর সমন্বয়ে অবস্থান করছে। কিন্তু সবগুলো নদীই পানি শূন্যতার কারনে বাংলাদেশের পানির চাহিদা পূরণে নদীগুলো তেমন কোন ভূমিকা রাখছেনা। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং নদীতে পানি না থাকার দরুন বৃক্ষরাজির পরিমান ক্রমশ কমছে। ফলে বায়োমাস হিসেবে ব্যবহৃত জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ জ্বালানী উৎস গুলো দিনে দিনে কমে যাওয়ায় গ্রামীণ জ্বালানীতে দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানীর জন্য গ্রামীণ জনগণকে কোনো না কোনোভাবে বাজারের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। আর এভাবে দৈনন্দিন ও বার্ষিক আয়রোজগারের একটা বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে জ্বালানীশক্তির ক্রয়খাতে যা অনেকসময়ই গ্রাম কি শহরের বস্তি এলাকার দরিদ্র জনগণের জন্য একটা চিন্তার বিষয়।
মানুষের সামাজিক জীবনের বড় একটি অংশই হলো খাদ্য গ্রহন আর খাদ্য গ্রহণ করার জন্য রান্না করাটা মানুষের সংষ্কৃতির একটি বৃহৎ অংশকে ঘিরে আছে। বিভিন্ন সময় খেয়াল করলে দেখা যায় প্রতিবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ধরনের জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। বায়েমাস জ্বালানি হিসেবে নাচোল উপজেলার বেশিরভাগ পরিবারই ঘুটা/নোন্দা, মুঠি এবং চাপড়ি (গরুর গোবর দিয়ে তৈরি জ্বালানি) ব্যবহার করতে দেখা যায়। যদিও বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ঘুটা/নোন্দা, মুঠি এবং চাপড়ির ব্যবহার কমে আসছে। কৃষি জমিতে কলের লাঙ্গল ব্যবহার এবং সর্বপরি যন্ত্র নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা প্রচলিত হওয়ায় বর্তমানে পরিবার ভিত্তিক খুব বেশী গরু ও মহিষ দেখা যায় না। গবাদি পশু বিশেষত গরু বা মহিষ নাই তারা প্রাকৃতিক উৎস হতে জ্বালানি সংগ্রহ করে।
নাচোল উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের একটি এফজিডিতে উঠে আসে এই এলাকাতে আবাদি/অনাবাদি জমিতে এক ধরনের আগাছা গাছ লক্ষনীয় যা স্থানীয়ভাবে ঝান্টি বা জঙ্গল গাছ নামে পরিচিতি। কোন আবাদ ছাড়াই এই গাছগুলো জমিতে জন্মায়। স্থানীয় জনসাধারণের ভাষ্যমতে জ্বালানি চাহিদার বেশ একটি বড় অংশ ঝান্টি পূরণ করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ঝান্টি ব্যবহার করছে এমন পরিবারের সাথে কথা বলে দেখা যায়, ঝান্টি ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। যারা এলার্জিতে ভোগেন তারা এই আগাছা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে চর্ম রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে বা হয়। এছারাও গবেষণাধীন এলাকাতে বায়োমাস ব্যবহারের ফলে যে সকল স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় যা তথ্য দাতারা উল্লেখ্য করেছেন যেমন- সাধারণত পাতা, ডালপালা সংগ্রহ করার জন্য শিশু ও নারীরা বেশি অংশগ্রহণ করে। শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে চোখে চুলকানী, জ্বালাপোড়া ও হাতে পায়ে ফুসকুড়ি উঠাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ দেখা দেয়। রান্নার সময় বায়োমাস ব্যবহারের ফলে প্রচুর পরিমান ধোঁয়া হয় ফলে ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ঠ বাড়তে থাকে।
গবেষিত অঞ্চলে বাঁশের কঞ্চি, খড়, কাশিয়া, ভূট্টা গাছ, কয়লা, ধঞ্চিয়া, কলমি, পাতা, গমের শীষ, শুকনো ঘাস, তুষ (ধানের খোসা) এবং বিভিন্ন প্রকার গাছের পাতা, ধানের গুড়ার অংশ, সরিষার গাছ, শুকনো বীজপত্র, গাছকে লাকড়ি বা খড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। যদিও রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানীর এইসব উৎসগুলো টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয় না তবে বর্তমানে সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানাধরনের প্রতিবন্ধকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট সদর উপজেলার শ্রী নান্টু মাহাতো বলেন, জয়পুরহাট অঞ্চলে আখ চাষ ভালো হয়। আখের ছোবরা ও শুকনো খোলস অনেক সহজলভ্য হওয়ার কারনে আমরা এগুলো ব্যবহর করে থাকি। তবে বর্তমানে চিনিকল বেশীরভাগ সময় বন্ধ থাকায় সহজে আখের ছোবরা ও শুকনো খোলস রান্নার জন্য সংগ্রহ করতে পারছে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানান ভূরঙ্গামারী,টেকনাফ ও শ্যামনগর উপজেলার তথ্যদাতারা, আজ থেকে ২০ বছর আগেও বাঁশ ঝাড় থেকে কঁঞ্চি, পাতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাঁশের মোথা () সংগ্রহ করা তাদের জন্য সহজ ছিল। তবে বর্তমানে এগুলোর বাজার মূল্য তৈরী হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহজে সংগ্রহ করতে পারছে না। উল্লেখ্য বর্তমানে ইট ভাটাগুলোতে বাঁশের মূথার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর বিক্রয় মূল্য তৈরি হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা রান্নার কাজে বেশিরভাগই পাহাড় ও বন থেকে সংগৃহীত কাঠ , বর্ষাকালে নাফ নদী দিয়ে মায়ানমার থেকে ভেসে আসা গাছ, গাছের ডালপালা সংগ্রহ করে রেখে পরবর্তীতে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত। একইভাবে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা রান্নার জ্বালানি হিসেবে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বিভিন্ন ফল, ডালপালা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত। কিন্তু অধিক জনসংখ্যার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং আইলার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে বর্তমানে জ্বালানী সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে।
গবেষিত অঞ্চল ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরের তথ্যদাতাদের তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, চর অঞ্চলে রান্নার জন্য জ্বালানি সংকট যারা চরে বসবাস করে না তাদের থেকে কম। চর এবং আসে পাশের এলাকার রান্নার জন্য জ্বালানির প্রধান উৎস এতদ্বাঞ্চলের চরগুলো। চরাঞ্চলের লাকড়ির সরবারহের উপর রান্নার জ্বালানির দাম উঠানামা করে। সরবারহের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্ষাকালে নৌকার অভাবে, শীতকালে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সুবিধামতো যানবাহনের অভাবে জ্বালানি বাজারে আনা সম্ভব না হলেই দাম বেড়ে যায়। চর এলাকায় রান্নার জন্য জ্বালানি কোন সমস্যা না থাকলেও বাতি জ্বালানোর জন্য কোরোসিন সরবারহ সমস্যা দেখা দেয়। মাঝে মাঝে কোরোসিনের অভাবে চরবাসীকে অন্ধকারে থাকতে হয়। জ্বালানি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, অটোরাইস মিলগুলোতে জ্বালানি হিসেবে খুব বেশি পরিমাণে খড় ও ধানের তুষ ব্যবহারের ফলে, এর চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির সংগ্রহ ক্ষমতার মধ্যে থাকা বায়োমাস জ্বালানিগুলো এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষকরে কার্তিক, অগ্রাহায়ণ ও পৌষ মাসে জ্বালানি কষ্ট আরো বেড়ে যায়। এ সময় জ্বালানি ক্রয় করে ব্যবহার করতে হয়। শ্যামনগর সাতক্ষীরার আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের সদস্য সুধাংশু কুমার মিস্ত্রি তার এলাকার জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বলেন , পূর্বে আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে (শ্যামনগর) জ্বালানি হিসেবে গোবরের তৈরি ঘটি ( গোবরের তৈরি জ্বালানি) ব্যবহার হলেও আইলার পরে ক্রমাগত গরু কমতে থাকে ফলে বর্তমানে মানুষ সুন্দরবনের কাঠ, ডাল-পালা জ্বালানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পরছে। এছাড়া চিংড়ী চাষের ফলে বর্তমানে কৃষি জমি না থাকায় কৃষি জমি নির্ভর জ্বালানিগুলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন । ঢাকায় জ্বালানি সংকটের চেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠির সক্ষমতার অভাব প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করা যায়। দরিদ্রজনগোষ্ঠি বিশেষ করে বস্তি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদরা প্রতিনিয়ত কম আয়ের কারনে জ্বালানি সংকটে কাটান। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকলেও পর্যাপ্ততার কারনে ঢাকা শহরের বেশিরভাগ বস্তি এলাকায় রান্নার জন্য পোশাক কারখানার টুকরো কাপড় ব্যবহার করে থাকে।
শ্রীমঙ্গলের নিরালা খাসি পুঞ্জির বিধবা লাউ তালাং(৫৬) এর দৈনিক রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাকড়ি-পাহাড় থেকে সংগ্রহ করতে ব্যায় হয় প্রায় ৪ ঘন্টা। সংগৃহীত পাহাড়ি লাকড়ি বাজারে বিক্রি করে যে টাকা পান তা দিয়েই লাউ তালাং কেরোসিন এবং আলো ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য জ্বালানি উপকরণ কেনেন। তালাং এর চূলা জ্বালানোর জন্য কেরোসিন বাবদ খরচ হয় ৩ টাকা এবং কুপিবাতি জ্বালানোর কেরোসিন বাবদ খরচ হয় ১০ টাকা। এখানে জ্বালানী সংগ্রহকারীর শ্রমকে আর্থিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি। লাউ তালাং আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে পাহাড়ে গাছ কমে যাওয়া এবং বনবিভাগের নানান নিষেধাজ্ঞার কারণে পাহাড়ের ঝরে পড়া পাতা ও ডাল সংগ্রহ করাও তার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
তথ্যদাতাদের তথ্যানুসারে এবং বর্তমান গবেষণার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে রান্নার জন্য জ্বালানী ক্রয় করতে না হলেও সংগ্রহের ক্ষেত্রে র্দূবোধ্যতা তৈরী হয়েছে। রান্নার জন্য জ্বালানী সহজে পাওয়ার আসায় গাছপালা-বন-পাহাড় উজার করছে। এত করে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সার্বিকভাবে চিন্তা করলে গাছ কাটা বা পাহাড় ও বন থেকে লাকড়ি বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ থেকে মানুষজনকে বাঁধা দেওয়া কঠিন কাজ। তবে টেকনাফ উপজেলার আবু কায়েসের ভাষায় বলা যায়, যারা কাঠ কাটছে তাদের জন্য বিকল্প কোন উৎস সরবারহ করলে আপনা আপনিই কাঠ কাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
রান্নার জন্য জ্বালানী সংগ্রহ বা এর ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে সমস্যাসমূহ থাকা স্বত্বেও রান্নার কাজে নিয়োজিত থাকা পরিবারের সদস্যরা কোন সমস্যা মনে করছে না। কারণ এই সমস্যাগুলোকে তাদের জীবন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিয়েছে। এগুলে কে তারা স্বাভাবিক বলে মনে কনে এবং রান্না করতে অভ্যস্থ। তবে গবেষিত এলাকায় বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোর নারী উত্তরদাতারা বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় রান্নার কাজ ও রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরন সংগ্রহ এবং রান্না বিষয়ক সকল চিন্তা ভাবনা নারীরাই করে থাকে। রান্না সম্পর্কিত যেসব সমস্যা দেখা যায় কিংবা নারীরা যেসব সমস্যা মোকাবেলা করে থাকে তার গুরুত্ব বাড়ির পুরুষদের কাছে নেই। বায়োমাস দিয়ে রান্নার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হলেও পুরুষরা সেগুলো তেমন কোন পাত্তা দেয় না। নারীরা যেহেতু কোন আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত নয় তাই তারাও এইসব জ্বালানি পরিবর্তনের বিষয়ে কোন চিন্তাও করেন না।
৫ম অধ্যায়
প্রচলিত চূলা এবং উন্নত চূলা : আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন
১৪টি অঞ্চলে আমরা প্রায় ৬০ ধরণের গ্রামীণ চুলা খুঁজে পেয়েছি। অঞ্চল ভেদে এসব চুলার বৈশিষ্ট্য, নকশা, কাঁচামাল, ব্যবহার ও উপযোগিতা ভিন্ন ভিন্ন
উন্নত বা বন্ধু চূলা অনেকক্ষেত্রেই উপযোগী তবে এতে নানান ধরণের জ্বালানী ব্যবহার করা যায় না, একই রকমের জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়।
৬০ ভাগ ব্যবহারকারী বলেছেন উন্নত চূলায় জ্বালানি বেশি লাগে, ৪০ ভাগ বলেছে জ্বালানি কম লাগে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যাক্তিরা বলেছে সাধারণ চুলার চাইতে উন্নত চুলায় ৫০ থেকে ৭০ ভাগ জ্বালানি কম খরচ হয়।
১০০ ভাগই বলেছেন, উন্নত চুলার জ্বালানি কিনতে হয়। জ্বালানি কিনতে হয় বলে দরিদ্র পরিবারের নারীরা এটি ব্যবহার করতে পারেন না।
উন্নত চুলা ধোয়ামুক্ত, কালি হয় না, স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। চিমনি, কয়েল, শিকসহ বিভিন্ন উপকরণ মাঝে মধ্যেই মেরামত করতে হয় যা কিনতে হয়।
উন্নত চূলার স্থাপন পদ্ধতি গ্রামীণ নারীদের উপযোগী নয়।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সনাতনী চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি পুড়িয়ে যতটুকু তাপশক্তি পাওয়া যায় তার শতকরা ৫ থেকে ১৫ ভাগ কাজে লাগে। বাকি ৮০-৮৫ ভাগ তাপশক্তি অপচয় হয়ে যায়। তাছাড়া চুলায় সৃষ্ট বিষাক্ত গরম গ্যাস কার্বন মনেঅক্সাইড ভাসমান অদহনকৃত কণা এবং ধোঁয়া ইত্যাদি ব্যবহারকারীর পক্ষে অনেক ক্ষতিকর। পরিবেশ দূষণের জন্য এসব ভাসমান ধোঁয়া অনেকটা দায়ী। নিম্ন আয়ের পরিবার গুলোতে যারা অনুন্নত চুলায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের করে রান্না এবং পানি গরম করে থাকে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যহীনতা এবং মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়া। ডঐঙ, ২০০৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী গৃহস্থিত তরল জ্বালানি থেকে সৃষ্ট ধোয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে দুর্বল শ্বাসপ্রস্বাস জনিত সংক্রমণে প্রায় ২১%, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসে প্রতিবন্ধকতাজনিত রোগে ৩৫% এবং ফুসফুসে ক্যান্সারের ফলে ৩% মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এরমধ্যে ৬৪% মৃত্যুও ঘটনা গুলো ঘটে নিম্ন আয়ের বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে। গৃহস্থিত বায়ু দূষনের সাথে অন্যান্য আরো যেসব রোগগুলো ক্রমবর্ধমান সেগুলো হলো: সক্রিয় যক্ষা, ফুসফুসজনিত রোগ, প্রতিকূল গর্ভাবস্থাজনিত ফলাফল জন্মকালীন ওজন স্বল্পতা। এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্ব জুড়ে শুধুমাত্র আগুনজনিত কারনেই প্রতিবছর তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ৫ বছর থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান ১৫টি কারণের মধ্যে একটি হলো আগুনজনিত কারণ।
আগে ফসল কাটার পর নাড়া, খড়-কুটা ইত্যাদি জমিতে ফেলে রাখা হতো। গরুর গোবর জমিতে দেয়া হতো। এগুলো জমিতে পঁচে জৈব সারে পরিনত হতো। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির চাহিদা পূরণ করার জন্য গোবর, খড়, কুটো, নাড়া জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে মাটিতে দেবার মতো সারের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। ফলে জমি প্রাকৃতিক সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মাটির রস কমে যাওয়ার ফলে জমির উর্বরতাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসল উৎপদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের দূষণও দেখা দিচ্ছে।
বেঁচে থাকার জন্য আমাদেরকে খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। এরমধ্যে বেশিরভাগ খাবারই আবার রান্না করে খেতে হয়। রান্নার জন্য প্রয়োজন হয় চুলার। এই চুলা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। রান্নার কাজে আমরা সবাই চুলা ব্যবহার করে থাকি। চুলার ধরন অনুযায়ী জ্বালানির ধরনও ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন: মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় কাঠ, খড়-কুটো, পাতা, ঘুটে ইত্যাদি। গ্যাসের চুলায় প্রয়োজন হয় গ্যাসের। কেরোসিন চুলায় ব্যবহৃত হয় কেরোসিন তেল।
গবেষিত অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই কৃষিজীবী যারা প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রযুক্তির অনেক সুবিধা নিয়ে অজ্ঞ ও অনিশ্চিত। গ্রাম বাংলার আবহমান কাল থেকেই গাছ পালা, পাতা দিয়ে রান্না করাটা তাদের কাছে এক ঐতিহ্যের সামিল তাই উন্নত চুলা বা গ্যাসের চুলা ব্যবহার অনেক কম। গবেষিত এলাকার জনগোষ্ঠি রান্নার ক্ষেত্রে মূলত মাটির তৈরি চুলা ব্যবহার করে আসছে। তারা মাটির তৈরি চুলাকেই রান্নার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করে। মাটির তৈরি চুলা ব্যবহার সংষ্কৃৃতির সাথে তারা খুব বেশি পরিচিত। বেশিরভাগ তথ্যদাতাই উন্নত চুলার ব্যবহার ও ধারণা সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তবে ধারণা আছে এমন সংখ্যাও কম নয়। জ্বালানির অপচয় রোধ, রান্নাঘর ধোঁয়া ও দূষনমুক্ত রাখতে এবং ব্যবহারকারীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ চুলা নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং বিভিন্ন মডেলের উন্নত চুলা উদ্ভাবন করেন। দুঃখজনকভাবে ১৯৯০’র দশকে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে জিআইজেড (জার্মান সরকরের একটি উন্নয়ন সংস্থা) বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রানালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যৌথভাবে উন্নত চুলা কার্যক্রম হাতে নেয়। এই চুলাকে আরো কার্যকর এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য করে বাংলাদেশের সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গবেষনাধীন এলাকার উপজেলা শহরে বসবাসকারী পরিবারগুলোতে উন্নত চুলা ব্যবহার দেখা গেলেও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে আশানুরূপ ব্যবহার দেখা যায়না। কারণ তাদের চাহিদার সাথে উন্নত চতলার সাদৃশ্যতা কম। উন্নত চুলা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূলত দক্ষতা ও উপযোগীতার কৌশল জানা না থাকার ফলে এর ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ বাড়িতেই দেখা যায় ফ্রি বা কম মূল্যে পেয়েছে তাই রেখে দিয়েছে কিন্তু ব্যবহার করে না। তবে উন্নত চুলা তৈরির কৌশল এবং প্রচলিত চুলার কৌশলকে একত্রিত করে যারা নিজেদের মতো করে চুলা তৈরি করেছে সেই সব চুলাগুলো বেশি উপযোগী। নিজে তৈরি করার ফলে কোন সমস্যা দেখা দিলে সেটা কিভাবে মেরামত করতে হবে বা কি করলে ভালো জ্বলবে তারা সেটা জানে। উদাহরণস্বরূপ নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রা গ্রামের তাছলিমা বেগম জয়পুরহাটের পাঁচবিবির আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে উন্নত চুলার ছবি ও এর ব্যবহার জেনে শুনেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের প্রচলিত চুলার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারমতো করে উন্নত চুলা স্থাপন করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া উন্নত চুলার চেয়ে তাছলিমার স্থাপন করা চুলা ভালো।
উন্নত চুলার চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে তার কারণ হল উন্নত চুলাতে জ্বালানি সাশ্রয় হওয়ার কথা কিন্তু উন্নত চুলায় জ্বালানি এবং জ্বালানি খরচ দুটোই বেশি হচ্ছে। ফলে গ্রাহদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের কাছে প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে বিক্রয় করতে আগ্রহ হারাচ্ছে, এই কথাগুলো বলছিলেন কূড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গমারী উপজেলার ব্রাইট গ্রীণ ফাউন্ডেশন এর বিক্রয়কর্মী। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরঙ্গামারী উপজেলার উন্নত চুলা নির্মাতা আক্কাছ আলী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, নাম যখন উন্নত চুলা আর কাঠামোও উন্নত তাই যারা এই চুলা ব্যবহার করেন তারা উন্নত ভেবে এই চুলাকে তুলে রাখেন; নিয়মিত রান্না করে না, এই চুলাকে পাশে রেখে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চুলাতেই রান্না করেন। যার কারনে হঠাৎ যখন ব্যবহার বা জ্বালাতে যান তখন চুলা জ্বলতে বা ধরতে চায় না। উন্নত চুলা ও বন্ধু চুলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ইতিবাচক ডিসকোর্স শুনে অনেকেই আগ্রহ করে এই চুলা ব্যবহার শুরু করেন। তথ্যদাতাদের মতে উন্নত চুলার ইতিবাচক ডিসকোর্সগুলো নিন্মরূপ-
ক্স উন্নত চুলা হলো সাধারণ বা সনাতন চুলার উন্নত সংস্করণ। এই চুলার মুখ ও তলার মাঝামাঝি জায়গায় একটি ছাকনী থাকে এবং এর উপর জ্বালানি পোড়ানো হয়। বহনযোগ্য উন্নত চুলার ছাকনীর নীচে দেয়ালের চারপাশে কয়েকটি ছিদ্র থাকে যার মাধ্যমে বাতাস প্রবেশ করে জ্বালানিকে ভালোভাবে পোড়াতে সাহায্য করে।
ক্স চিমনী বিহীন উন্নত চুলার ঝিকা গুলোর উচ্চতা আধা ইঞ্চি থাকে। চিমনীযুক্ত চুলার ক্ষেত্রে দুইটি মুখের প্রথমটিতে সরাসরি আগুনের তাপে রান্না হয় এবং দ্বিতীয় মুখে প্রথম মুখের সৃষ্ট গরম গ্যাসে রান্না হয়। চুলায় ব্যবহৃত গ্যাস চিমনীর সাহায্যে রান্না ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।
ক্স জ্বালানি পুড়ে শেষ হলে ছাই চুলার নিচে জমা হয়। রান্না ঘরে ধোঁয়া কালি হয় না ও পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। চিমনীর ঢাকনা থাকায় কার্বন সরাসরি বাতাসে যেতে পারে না।
ক্স পারিবারিক রান্নার কাজে ব্যবহার ছাড়াও উন্নত চুলা ছাত্রাবাস, হাসপাতাল, ক্যাম্প, সেনানিবাস, এতিমখানা, হোটেল প্রভৃতি জায়গায় ব্যবহার করা যায়। এছাড়া শিল্প কারখানায়ও এই চুলা ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী।
ক্স সাধারণ চুলার চাইতে উন্নত চুলায় ৫০ থেকে ৭০ ভাগ জ্বালানি কম খরচ হয়। সাধারণ চুলার জ্বালানি উন্নত চুলায়ও ব্যবহার করা যায়। উন্নত চুলা মাটি দিয়ে অতি সহজেই তৈরি করা যায়।
ক্স উন্নত চুলা থেকে ধোঁয়া বা কালি কম উৎপন্ন হয়। ফলে রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।
ক্স ধোঁয়া চিমনীর সাহায্যে বাইরে বের হয়ে যায় ফলে গৃহিণীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রান্নাঘর গরম হয় না।
ক্স রান্না করতে কম সময় লাগে।
ক্স অগ্নি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কম থাকে।
ক্স সাধারণ চুলার চাইতে উন্নত চুলা দেখতেও সুন্দর।
ক্স সর্বোপরি এই চুলা ব্যবহারে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ হ্রাস হয় ফলে ‘‘গ্রীণ হাউজ এফেক্ট’’ কমাতে সাহায্য করে।
উন্নত চুলা বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, যেমন: উন্নত একমুখী চুলা (বহনযোগ্য), উন্নত একমুখী চুলা (অর্ধেক মাটির নীচে), করাতের গুঁড়া/ভূষি ব্যবহার উপযোগী বহনযোগ্য উন্নত একমুখী চুলা, উন্নত একমুখী চিমনীযুক্ত চুলা পারিবারিক ব্যবহার উপযোগী (মেঝের উপরে), পারিবারিক ব্যবহার উপযোগী উন্নত দ্বিমুখী চিমনীযুক্ত চুলা (মেঝের উপরে), উন্নত দ্বিমুখী চিমনীযুক্ত চুলা পারিবারিক ব্যবহার উপযোগী (অর্ধেক মাটির নীচে), তাপনিরোধক কম্বল সংযুক্ত উন্নত চিমনীযুক্ত চুলা, উন্নত দ্বিমুখী চিমনীযুক্ত চুলা প্রাতিষ্ঠানিক/বাণিজ্যিক ব্যবহার উপযোগী ।
প্রচলিত চুলা এবং চিমনী বিহীন উন্নত চুলা ও চিমনীযুক্ত উন্নত চুলার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নিন্মে তা উল্লেখ্য করা হলো -
সাধারণ চুলা চিমনী বিহীন উন্নত চুলা চিমনী যুক্ত উন্নত চুলা
১. এ চুলার ঝিকাগুলো অনেক উঁচু কাজেই চুলায় যে আগুন জ্বলে তার অনেকটা ঝিকার ঐ ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ১. এই চুলার ঝিকাগুলোর উচ্চতা মাত্র ০.৫ ইঞ্চি (১.২৫ সেঃমিঃ) এর ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আগুন ঝিকার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে না। ১. এই চুলায় কোন ঝিকা না থাকায় আগুন বা উত্তপ্ত গ্যাস সরাসরি বেরিয়ে যেতে পারে না।
২. এ চুলার গভীরতা অনেক বেশি, কাজেই চুলার তলায় জ্বালানি পোড়ে তা পাতিলের তলায় ঠিকমত এসে তাপ দিতে পারে না। ২. এই চুলার ভিতরে ঝিকা হতে নির্দিষ্ট দুরত্বে ছাকনী থাকে। এর ফলে ছাকনীর উপরে যে দুরত্বে আগুন জ্বলে তা পুরোপুরি পাতিলের তলায় তাপ দিতে পারে। ২. এই চুলার ভিতরে চুলার উপর হতে নির্দিষ্ট দুরত্বে একটি ছাকনী থাকায় ছাকনীর উপর যে আগুন জ্বলে তাতে প্রথম মুখে সরাসরি রান্না হয় ও দ্বিতীয় মুখে প্রথম মুখে সৃষ্ট উত্তপ্ত গ্যাসে রান্না হয় এবং ব্যবহৃত গরম গ্যাস চিমনীর সাহায্যে রান্না ঘরের বাইরে বেরিয়ে যায়।
৩. চুলার তলায় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে না বলে জ্বালানি বার বার নিভে যায়। ফলে ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালাতে হয় এবং চুলার তলায় প্রচুর কয়লা জমে থাকে। ৩. এই চুলার ছাকনীর নীচ দিয়ে বাতাস প্রবেশের পথ আছে। এই পথ দিয়ে প্রয়োজনীয় বাতাস চুলার মধ্যে প্রবেশ করে জ্বালানিকে ভালোভাবে পোড়াতে সাহায্য করে। ফলে চুলায় ছাই ছাড়া কোন কয়লা জমে থাকে না। ৩. এই চুলার ছাকনীর নীচে দেয়ালের দুই পার্শ্বে ২টি বাতাস প্রবেশের পথ আছ। এই পথে প্রয়োজনীয় বাতাস চুলার মধ্যে প্রবেশ করে জ্বালানিকে ভালোভাবে পোড়াতে সাহায্য করে। ফলে চুলার মধ্যে ছাই ব্যতীত কোন কয়লা জমে থাকে না।
৪. উপরোল্লিখিত কারণ গুলোর জন্য সাধারণ চুলায় ৫-১৫ ভাগ তাপশক্তি কাজে লাগে এবং শতকরা ৮৫ থেকে ৯৫ ভাগ তাপ শক্তির অপচয় হয়। ৪. উন্নত চুলায় উপরোল্লিখিত কারণগুলোর জন্য জ্বালানি অর্ধেকেরও বেশি বেঁচে যায়। ৪. এর ফলে এই চুলায় সাধারণ চুলার তুলনায় তিন ভাগের দুই ভাগেরও বেশি জ্বালানি বেঁচে যায়, রান্নায় সময় কম লাগে এবং রান্নাঘর ধোঁয়ামুক্ত থাকে।
গ্রামবংলায় আবহমানকাল থেকে প্রচলিত ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা বা এই সব ব্যবস্থার খারাপ দিকগুলোকে বিচার করা বা করতে যাওয়াটা ঐ ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা বা হেয় করার শমিল। যাই হোক যেখানে সুবিধা আছে সেখানে সাধারণ কিছু অসুবিধা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। প্রচলিত যে সব চুলায় গ্রামীণ নারীরা অভ্যস্থ এর বাইরে গিয়ে নতুন প্রযুক্তি সম্পন্ন কোন চুলাতে তাদেরকে পরিচিত করানোর ফলে গ্রামীণ নারীরা এটাকে গ্রহণ করতে পারেনি। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গমারী উপজেলার জয়মন্ডপ গ্রামের রওশন আরা বেগম এর ভাষায়, এটাকে বন্ধু চুলা বলব নাকি শত্রু চুলা বলব তা ভেবে পাই না। তার মতে, সঠিকভাবে চুলা তৈরি করে দিতে পারে না বলেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণাধীন এলাকাতে রওশন আরা বেগমের মত আরো অনেক ব্যবহারকারীই বন্ধু বা উন্নত চুলার বেশকিছু অভাব, অভিযোগ এবং এর পাশাপাশি কিছু সমাধানের কথাও উল্লেখ্য করেন।
ক্স চুলা ফেঁটে যায়। চুলা ফেঁেট যাওয়া রোধে ঘন ঘন মাসে ৪ থেকে ৫ বার কাঁদা মাটি দিয়ে চুলার ভেতরের অংশে লেপে দেবার পরামর্শ দেয়া হয়।
ক্স উন্নত চুলার প্রধান সমস্যা হলো এর সঠিক স্থাপন পদ্ধতি। সাধারণতঃ উন্নত চুলা মটি থেকে একটু উঁচুতে স্থাপন করা হয়। কিন্তু গ্রামীণ নারীরা পিড়িতে বসে রান্নায় অভ্যস্থ। ফলে উন্নত চুলা থাকলেও গ্রামীণ নারীরা সচেতনভাবে নিজের তৈরি মাটির চুলায় রান্না করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বন্ধু বা উন্নত চুলায় দাড়িয়ে বা আঁধা বসা অবস্থায় রান্না করতে হয়। গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি এক ধরনের ঝামেলা। তাই মাটির সমান্তরাল করে যদি চুলাটি স্থাপন করা হয় তবে গ্রামীণ নারীরা অধিক আগ্রহী হবে।
ক্স গবেষিত অঞ্চল ভুরঙ্গামারী উপজেলার তথ্যদাতারা উল্লেখ্য করেন, বর্তমানে সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান যে সব উন্নত চুলা সরবারহ করছে সেগুলো দ্বিমূখী। বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা একটি চুলায় রান্না করে অভ্যস্ত। একটি রান্না চুলায় তুলে দিয়ে নারীরা অন্য কাজ করতে অভ্যস্ত। এই চর্চর কারনে একই সঙ্গে দুইটি চুলায় রান্না করা তাদের হয়ে উঠে না। কিন্তু যখন একটি মুখের জ্বালানি দিয়ে একটি চুলায় রান্না করা হয় তখন অন্য চুলার মাধ্যমে মোট তাপের অর্ধেকের একটু কম বাইরে চলে যায়, ফলে রান্না করতে বেশি সময় লাগে। এক্ষেত্রে রান্নার সময় পুরো তাপ একটিতে বর্তমান থাকে তাহলে রান্না করতে কম সময় লাগবে।
ক্স তাপ কম হয় এবং মুখ দিয়ে তাপ ও ধূয়া বের হয়ে আসে। পাইপে ময়লা জমে গেলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই মাঝে মাঝে পাইপ পরিষ্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণাধীন এলাকার তথ্যদাতারা জানান, এক্ষেত্রে পাইপে ¯িপ্রং লাগিয়ে টিপ পদ্ধতির মাধ্যমে পাইপ পরিষ্কার করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা সম্ভব হলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যেত।
ক্স পরিবারে ব্যবহৃত চুলাগুলো আকারে ছোট হবার কারনে দ্রুত চুলায় ছাঁই ভড়ে যায় ফলে ভালো জ্বলে না। এই চুলা বড় পরিবারের জন্য উপযোগী নয়।
ক্স চুলার জ্বালানি প্রবেশ মুখ ছোট হবার কারনে মোটা লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না। রান্না করার জন্য একই সমান লাকড়ি লাগে। চর এলাকার জনগোষ্ঠি রান্নার জ্বালানি হিসেবে নদীতে বেসে আমা খর কূটা, ধানের খর, স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন জ্বালানি ব্যবহার করে থাকে যা উন্নত চুলায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ এ চুলার কাঠামোগত দিক পরিবর্তন করে আবার বিক্রয় উপযোগী করা সম্ভব।
ক্স অতি দরিদ্রের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
ক্স সব ধরনের রান্না বন্ধু চুলায় বা উন্নত চুলায় করা যায় না যেমন ধান সিদ্ধ, মুড়ি ভাজা যায় না।
স্থানীয় জনগণকে বিশেষ করে স্থানীয় নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা অন্যদের যেমন শিখাতে পারবে ঠিক তেমনি প্রচলিত চুলার সাথে উন্নত চুলার মিশ্রণ ঘটিয়ে নিজেদের ব্যবহার উপযোগী চুলা তৈরি করতে পারবে। উন্নত চুলার বিভিন্ন সমস্যা বা অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর উপজেলার সিপিডি নামক প্রতিষ্টানের একজন কর্মকর্তা জানান যে, গ্রাহকরা যেসব সমস্যার কথা বলেন সেটা সেবা প্রতিষ্ঠানের বা উন্নত চুলার কোন ভুল বা সমস্যা না। গ্রাহকদের উন্নত চুলা ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা না থাকার ফলাফল এটি। তবে লক্ষ্যনীয় দিক হলো দুই পক্ষের এক ধরনের সমঝোতার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান করা হয়।
৬ষ্ঠ অধ্যায়
সূর্যই শক্তি, ধনীদরিদ্রের জ্বালানীবন্ধু
সূর্য্য জ্বালানি ঃ আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ
কূড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার একটি চর চরকালুয়া। এই চরেই বসবাস করে হাঁসি সে ৬ষ্ঠ শ্রেণেিত পড়াশুনা করে। চরকালুয়ার হাঁসি বইতে পড়েছে, সূর্যের আলো দিয়ে গাছ খাদ্য ও শক্তি তৈরি করে। গত একবছর ধরে হাসি শুধু দিন নয়, রাতেও সূর্যের আলোতে তার লেখাপড়া চালাতে পারছে।
সৌর বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ কারনে এখানে বছরের বেশিরভাগ দিনই রোদ থাকে। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে বাস্তব করতে ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন কেম্পানি কাজ করে আসেছে। তাদের মধ্যে সরকারের কোম্পানি ইডকল এবং বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ শক্তি অন্যতম। ইনফাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিেিটড (ইডকল) নামের সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক সোলার সেক্টরে সামগ্রিক অর্থায়ন করে থাকে। সরকারি মালিকানার এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। বিছিন্ন , দূর্গম এবং অবহেলিত গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে সোলার হোম সিস্টেম বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক পরিবর্তন সূচনা করেছে।
সোলার হোম সিস্টেম মূলত গ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলো বেশি ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে যে সব এলাকায় বিদুৎ নেই , আবার অনেক পরিবার আছে বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম রাখে কেননা বিদ্যূৎ সবসময় থাকে না। তারা বিদ্যূৎ এর বিকল্প হিসেবে সৌর বিদ্যূৎ ব্যবহার করে। মেহেরপুর উপজেলার বসতবাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করে এমন পরিবারগুলোর সবাই কোন না কোনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণকারী এবং তারা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ব্যবহারের পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ গ্রাহকই মূলত তিনটি কারনে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করেন, পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং, বাচ্চাদের লেখাপড়া ঠিকমত চালানো এবং আলো জ্বালানো বাবদ অতিরিক্ত খরচ থেকে বাঁচা। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গমারী ব্র্যাক সোলার বিক্রয় ও সেবা কেন্দ্রে কর্মরত একজন কর্মী জানান, কুড়িগ্রাম অঞ্চল তথা বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকাতেই সোলারের চাহিদা মধ্যবিত্ত পরিবারের বেশি। তবে যেসকল এলাকাতে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সকল শ্রেনীর মানুষ যে সকল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সোলার ক্রয় করছে তা হলো, কোরোসিনের চেয়ে সোলারের খরচ কম, ভালো আলো পাচ্ছে।
বর্তমানে দরিদ্র জনগোষ্ঠির একাংশ সৌর বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়ার আশায় ক্ষুদ্র ঋণ সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিচ্ছে। মূলত সিস্টেম ক্রয়ের পূর্বে ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ করার জন্য এরকম ঋণ গ্রহণ করছে। একদিকে ডাউনপেমেন্টের জন্য গ্রহণকৃত ঋণের কিস্তি অন্যদিকে সিস্টেম ক্রয়ের কিস্তি দুটো পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় সঠিক সময় কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মানসিক অশান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। সকল প্রতিষ্ঠানই নিজের এইরূপ কার্যক্রমকে সামাজিক সেবা বলে উল্লেখ্য করেন। উল্লেখ্য বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই সেবা নিতে হলে কিস্তির মাধ্যমে নিতে হয়। চর ভূরঙ্গামারী ইউনিয়ন (কুড়িগ্রাম) পরিষদের সদস্য জানান, কিস্তি পদ্ধতিতে সোলার বিক্রয় এর ফলে যেমন সোলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে আবার এর মূল্যায়নও নেই বললেই চলে। ১৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পরিবারগুলো সোলার সিস্টেম নেবার পরে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা কোন সমস্যা না হলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কিস্তি দিতে চায় না। ফলে কিস্তি সংগ্রহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে এক ধরনের দ্বন্দ তৈরি হচ্ছে। ফলাফল স্বরূপ গ্রাহক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সামাজিক মর্যাদা বা ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি এবং গ্রাহকরা একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারছে না। যদিও বলা হচ্ছে এটি একটি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা বাস্তবে সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটছে, সেবামূলক না হয়ে প্রতিহিংসার রূপ ধারন করছে প্রতিনিয়ত।
গবেষনাধীন এলাকাতে সোলার হোম সিস্টেম বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে বেশ কিছু সমস্যা এবং এর পাশাপাশি কিছু সুবিধাও উঠে আসে তা নিন্মরূপ :
ক্স প্রতিদিন নির্দিষ্ট ৩ থেকে ৪ ঘন্টার বেশি ব্যবহার করা যায় না। প্রযুক্তি এবং ব্যাটারির ধারন ক্ষমতা বেশি হলে হয়ত বেশিক্ষণ ব্যবহার করা যাবে।
ক্স সূর্য্যরে আলোতে চার্জ গ্রহণ করায় আবহাওয়া খারাপ থাকলে যেমন ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ থাকলে ব্যবহার করা যায় না। এই সময় পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পরে। অপচয় না করে পরিমিত ব্যবহার করলে এ সমস্যার কিছুটা সমাধান করা সম্ভব। শিলা বৃষ্টি হলে সোলার প্যানেল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গবেষিত অঞ্চল গাইবান্ধার তথ্যদাতাদের মধ্যে অনেকেই বলেন যে সব ঘরে সোলার প্যানেল বসানো আছে সেখানে বেশি বজ্রপাত হয় যদিও অন্যান্য তথ্যদাতারা এই আশংকা
ক্স দূর্বল সংযোগের ফলে লাইটে সমস্যা দেখা দেয়। চার্জ কন্ট্রোলার অতি দ্রুত নষ্ঠ হয়ে যায়। দিনের বেলা আলো জ্বালালে ব্যাটারিতে চার্জ থাকে না। এই সব বেশিরভাগ সমস্যাই মূলত গ্রাহকদের সচেতনতার অভাবেই হয়ে থাকে।
ক্স আলো কম হয়,প্যানেল এবং ব্যাটারি টেকসই না। পুরো সিস্টেমের যতœ নিতে হবে। ব্যাটারির ডিস্টেল পানি শেষ হয়ে গেলে তা বদলিয়ে দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে প্রচারনামূলক কর্মসূচী হাতে নেওয়া যেতে পারে।
ক্স সোলার হোম সিস্টেম এর যন্ত্রাংশের দাম অনেক বেশি, ওয়ারেন্টির নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাবার পরে যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে ব্যাবহারকারীকে বেগ পোহাতে হয়।
ক্স সোলার হোম সিস্টেমের কোন কিছু নষ্ট হলে সরবারহকৃত প্রতিষ্ঠান ছাড়া এটি মেরামতের জন্য আশেপাশে কোন টেকনিশিয়ান পাওয়া যায় না। এ জন্য সমস্যার সমাধান করতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই ভোকেশনাল বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় রয়েছে। পর্যাপ্ত কারিগরি পৃষ্টপোষকতা পেলে এই সব বিদ্যালয়ে সোলার হোম সিস্টেম বিষয় ট্রেড কোর্স চালু করা যেতে পারে। নাচোল উপজেলায় অবস্থিত একটি ভোকেশনার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহিদুর রহমান। তিনি এবং তার আরেকজন সহকর্মী লতিফুর রহমান কিছু পৃষ্টপোষকতার কথা উল্লেখ করেন। তাদের মতে নিন্মোক্ত এইসব সহযোগিতা পেলে সোলার বিষয়ক ট্রেড কোর্স চালু করা সম্ভব। যেমন- শিক্ষকদের সোলার বিষক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, সম্পৃক্ত বই, কোর্সের গ্ররুত্ব শিক্ষার্থীদের মাঝে বোঝানো, আর্থিক সহায়তা।
ক্স বিদ্যূৎ বিল না দিলে সরকার থেকে সংযোগ বিছিন্ন করার নিয়ম রয়েছে। সোলার বিক্রির ক্ষেত্রে এমন কোন নিয়ম থাকলে গ্রাহক সোলারের গুরুত্ব বুঝতো এবং গুরুত্ব বুঝলে এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।
ক্স সোলার সম্পর্কে গ্রাহকদের অভিযোগের কথা স্বীকার করে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরঙ্গামারীতে কর্মরত একজন সোলার বিক্রয় কর্মী বলেন, বর্তমানে বাজারে যে সোলার প্যানেল পাওয়া যায় তার ১ ওয়াটের দাম ৪০ টাকা কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা করে। বর্তমানে যে ব্যাটারি দেওয়া হয় তার পাত কম, বাজারে একটি এল ই ডি বাল্বের দাম ২৫০ টাকা কিন্তু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে তা নিচ্ছে ৫৫০ টাকা করে। বর্তমানে যে সব ক্যাবল দেওয়া হচ্ছে তা চিকন হওয়ায় ভোল্টেজ কম পায়। এছাড়া বর্তমানে গ্রাহকদের যে প্যানেল দেওয়া হচ্ছে তা বাংলাদেশ অথবা চীনের তৈরি যা খুব বেশি টেকসই হয়না। সার্বিকভাবে বলা যায় সোলার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সোলার বিক্রির সময় অধিক টাকা নিচ্ছে যা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করছে বলে গ্রাহকরা বুঝতে পারে না।
ক্স বিদ্যুতের বিকল্প সোলার ব্যবহার না করার কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু মতামত উল্লেখ করেন টেকনাফ উপজেলার একজন যুবক রুহুল আমিন বলেন, মাসিক যে টাকা আমরা কেরোসিন জ্বালাই তা দৈনিক ক্রয় করে থাকি। সোলার সিস্টেম ক্রয় করলে একসাথে অনেকগুলো টাকা প্রয়োজন হয় আবার কিস্তির মাধ্যমে নিলেও প্রতি সপ্তাহের কিস্তির পরিমান দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের অবস্থান সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই এলাকা দিয়ে চোরাচালান নিত্য নৈমেত্তিক ঘটনা। কোন পরিবার সোলার ব্যবহার করতে চাইলেও চোরাকারবারীদের কারনে তারা ব্যবহার করতে পারে না। রাতে এলাকার ঘরে ঘরে আলো জ্বললে চোরাকারবারীদের চোরাচালান করতে সমস্যা হয়। আবার কেউ যদি বাড়িতে সোলার ক্রয় বা কোন উন্নয়নমূলক কাজ করে তবে সামাজিকভাবে সবাই মনে করে পরিবারটি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। এটি একটি বড় সমস্যা ।
ক্স গবেষিত অঞ্চল গোয়াইনঘাট এর তথ্যদাতারা জানান, ভৌগলিকভাবেই এই অঞ্চল অধিক বৃষ্টির এলাকা। একবার বৃষ্টি শুরু হলে একটানা ৫ থেকে ৬ দিন বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির এই সময়গুলোতে রোদ না থাকার ফলে তাদের অন্ধকারে থাকতে হয়।
মেহেরপুরের মহাজনপুর বাজারের শ্রী শুবল কুমার, মিরাজ আলীসহ আরো অনেক ব্যবসায়ী সৌর বিদ্যুতের সুবিধার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলেন, সৌর বিদ্যুৎ মানেই নিজস্ব বিদ্যুৎ। যখন প্রয়োজন তখনই ব্যবহার করা যায়। যারা কিস্তিতে নিয়েছে কিস্তি পরিশোধ হয়ে গেলেই সিস্টেমের মালিক নিজেই। সুতরাং এই ব্যবস্থা অবশ্যই ভালো। গবেষিত অঞ্চলের তথ্যদাতারা বেশ কিছু সুবিধার বিষয়ে উল্লেখ করেন :
ক্স মাসিক কোন বিল দিতে হয় না। টেকনাফ উপজেলার একজন তথ্যদাতা রুহুল আমিন বলেন, একজন ব্যাক্তি যখন কিস্তিতে সোলার ক্রয় করে, তখন এক থেকে তিন বছরের মধ্যে সেই সোলারটা নিজের হয়ে যায়। এর পরে আর তাকে কোন মাসিক বিল দিতে হয় না। অর্থ্যাৎ সারা বছর কিছু রক্ষনাবেক্ষণ খরচ ছাড়া আর কোন খরচ তাদেরকে করতে হয় না। একই উপজেলার আলম বলেন, সোলার ব্যবহারের পূর্বে তার বাড়িতে প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল আসতো ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা। কিন্তু সোলার ব্যবহারের পর থেকে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কম আসছে । এতে করে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও তার অনেক সাশ্রয় হচ্ছে।
ক্স সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহারের ফলে কেরোসিনের ব্যয় ও দূঘর্টনা থেকে বাঁচা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সৌর বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং নাই এবং রক্ষনাবেক্ষণও সহজ।
ক্স সৌর বিদ্যুতের উচ্চ ভোল্টেজ না থাকায় নিরাপদ এবং সহজেই যেকোন যায়গাতে স্থানান্তর করা যায়।
ক্স সোলার ব্যবহারের ফলে এলাকাতে চোরের উৎপাত কমেছে।
ক্স সৌর বিদ্যুৎ কোরোসিনে চেয়ে সাশ্রয়ী। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার হাবিবুর রহমান একটি আর্থিক তুলনামূলক হিসাব তুলে ধরেন। ফুলছড়ি বাজারে হাবিবুরের একটি বেকারির দোকান ও ফ্যাক্টরি রয়েছে। দোকান ও ফ্যাক্টরিতে আলো জ্বালানোর জন্য প্রতিদিন ২ লিটার কোরোসিন তৈল প্রয়োজন হত। কোরোসিন ব্যবহারের সময় ২ লিটার কেরোসিনের বাজার মূল্য ছিল ১৬০ টাকা। তৎকালীন বাজার মূল্য হিসেবে মাসে বাতি জ্বালানোর জন্য কেরোসিন বাবদ খরচ ছিল ৪৮০০ টাকা। বর্তমানে (গবেষনাকালিন সময়ে) হাবিবুর দোকান ও ফ্যাক্টরির জন্য ৬৫ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল ক্রয় করেছে যা দিয়ে ৭টি টিউব ও ১টি সাদা কালো টেলিভিশন চালাচ্ছে। প্রথমে মোট দামের ১৫ শতাংশ দেবার পরে মাসিক কিস্তি দিতে হচ্ছে ১০১৪ টাকা এবং তিন বছর পরে হাবিবুর এই সিস্টেমটির মালিক হয়ে যাবে। এছাড়া প্রয়োজনে সিস্টেমটি স্থানান্তর করা যাবে। উপরুন্ত প্রতিমাসে হাবিবুরের বাতি জ্বালানো বাবদ আয় হচ্ছে ৩৭৮৬ টাকা। কারণ প্রতি মাসে তেল খরচ বাবদ খরচ হত ৪৮০০ টাকা কিন্তু সোলার হোম সিস্টেম বাবদ মাসে খরচ হচ্ছে মাত্র ১০১৪ টাকা।
বিদ্যু উৎপাদনের চাহিদা এবং তার সথে পাল্লা দিতে না পারায় ক্রমবর্ধমান ঘাটতিতে দেশ যখন ভয়াবহ সংকটে তখন সৌর বিদ্যুতের প্রয়োজনিতা জোরেসোরে আলোচনায় আসছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। নিজেদের ছাদে দেশের সম্ভবত বড় প্যানেল বসিয়ে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজধানীত সৌর বিদ্যুতের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্যানেল স্থাপন করেন। সৌর বিদ্যুতের এই রকম সাফল্য সম্ভাবনার বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ চোখে পড়ছে। এই রকমই বেশ কিছু সাফল্য যা স্থানীয়ভাবে ও জাতীয়ভাবে প্রশংসার দাবী রাখে।
জিপি পাওয়ার প্রজেক্ট ,পাহাড়পুর, আজমিরিগঞ্জ, হবিগঞ্জ
২০১০ সালের মে মাসে শুরু হওয়া জিপি পাওয়ার প্রজেক্ট এর আওতায় বর্তমানে পাহাড়পুর গ্রামের কালাবোরো হাটি, বাকা হাটি, নয়া হাটি, চর হাটির সর্বমোট ১৩৬টি পরিবারে সংযোগ চালু রয়েছে। এছাড়াও পাহাড়পুর বাজারে অবস্থিত জিপি সিআইসি-তে একটি কম্পিউটার, একটি স্ক্যানার এবং একটি প্রিন্টার দিনের বেলায় মোট ৭ ঘন্টা চলে। বিনা টাকায় সংযোগ নেবার পরে প্রতিদিন ৭ ঘন্টা করে প্রত্যেকটি পরিবার ৫ টাকার বিনিময়ে একটি ৫ ওয়াটের বাল্ব ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। উল্লেখ যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য যে কোন কারণে সংযোগ বিছিন্ন থাকলে নির্দিষ্ট দিনগুলোর কোন টাকা দিতে হয় না। প্রতিদিন ৭ ঘন্টা সার্ভিস ঠিক রাখার জন্য টাওয়ারে স্বয়ংক্রিয় সময় নিয়ন্ত্রন যন্ত্র বসানো আছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্ধ্যায় চালু হয়ে আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক ৭ ঘন্টা চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। জিপি পাওয়ার হাউজ সম্পর্কে গ্রামবাসীর অভিমত নিচে উল্লেখ করা হলো-
ক্স কুপির বাতির চেয়ে ভালো আলো পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বে অনেক বাড়িতেই জেনারেটরের সংযোগ ছিল। একটি বাল্ব জ্বালানোর জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতে হত। কিন্তু সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট এর ফলে তাদের প্রতিদিন ৫ টাকাতেই আলো পাচ্ছে। তবে জেনারেটরের আলো বেশি পাওয়া যেত। সোলারের আলো কম হওয়ায় বই পড়তে বা চলাফেরায় অসুবিধা হয়। তাছাড়া কোন কারণে সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট নষ্ট হয়ে গেলে ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে সারতে সারতে ৫ থেকে ৭ দিন লেগে যায়, বন্ধ থাকার সময়ে বাচ্চারা পড়াশুনা করতে চায় না। আবার ঘরে চলাফেরা করতেও অসুবিধা হয়। বিশেষ কোন সমস্যা না থাকলে শুধুমাত্র রোদের কারনে সোলার চার্জ না নিলে বা টাওয়ারের কোন সমস্যা দেখা দিলে সাময়িকভাবে পাওয়ার প্রজেক্টের ব্যাটারি টাওয়ারের অবস্থিত জেনারেটর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিয়ে পাওয়ার প্রজক্ট চালু রাখে।
ক্স প্রত্যেকটি পরিবারে অন্ততঃ দুইটি বাতি প্রয়োজন কিন্তু প্রজেক্ট এ একটি বাড়িতে একটি বাতি প্রদান করে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে তাদের রান্না ঘরে বা অন্য কাজে কুপি জ্বালাতে তেল খরচ হচ্ছে। একটি কুপি জ্বালাতে ৩০ দিনে ২৮০ টাকার তেল লাগে। যদি আরেকটি সংযোগ দিতো তবে পরিবারগুলোর মাসে প্রায় ১৩০ টাকা করে স্বঞ্চয় হত। প্রত্যেকটি বাড়িতে মিটার ব্যবস্থা চালু করে চাহিদা মাফিক সংযোগ দেওয়া যেতে পারে।
ক্স আমরা জানি মানুষের চাহিদার শেষ নাই তবে স্বভাবিকভাবেই যদি একটি পরিবারে দুইটি বাতি এবং মোবাইল চার্জারের ব্যবস্থা করা যেত তবে তা সবার জন্যই ভালো হয়। চাহিদা পূরুণ না হওয়ায় বা সচেতনতার অভাবে কোন কোন পরিবার একটি লাইনের সাথে ক্রস আরেকটি লাইন বের করে মোবাইল চার্জ দেওয়া বা আরেকটি বাতি জ্বালানো বা কোন কোন সময় ফ্যান চালাচ্ছে। সোলার পাওয়ার লাইনটি বাড়ির ভেতর দিয়ে যাওয়ায় অতি সহজেই তারা ক্রস লাইন নিতে পারে। বেশিরভাগ সময়ই ক্রস লাইন বের করতে গিয়ে না বুঝে নেগেটিভ পজেটিভ এক করে ফেলে, ফলে ঐ নির্দিষ্ট একটি বাড়ির কারনে কার্যতঃ পুরো ১৩৬টি পরিবারেই সংযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য তাৎক্ষনিক ১৩৬টি পরিবারেই খোঁজ নিতে হয় কোন বাড়িতে এই সমস্যাটি ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে না পারলে ঢাকায় জিপিতে খবর দিলে ঠিক করে দিয়ে যায়। দেখা যায় এক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ দিন পুরো সংযোগটি বন্ধ থাকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য জিপি যদি প্রত্যেকটি পরিবারে অথবা কয়েকটি বাড়ি মিলে ফিউজ ব্যবস্থা চালু করে তবে ১৩৬টি পরিবারকে ভোগান্তিতে পরতে হবে না। বাজারে লাইন নেবার জন্য যে খুঁটিটি আছে সেটি আরো উঁচু করে বাড়ির ভেতর দিয়ে লাইন না নিয়ে খুঁটিতে লাইন টানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ক্স মাস শেষে স্থানীয় বাজারের গ্রামীণফোনের ডিলার প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে পাওয়ার প্রজেক্টের মাসিক বিল উত্তোলন করে স্থানীয় কৃষি ব্যাংকের শাখায় পাওয়ার প্রজেক্টের এ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় এই প্রজেক্টের সমস্যা দেখা দিলে খরচগুলো এই হিসাব থেকে করা হয়ে থাকে।
ক্স কোন কোম্পানির কাছ থেকে সোলার ক্রয় করলে বাতি, টিভি, ফ্যান, মোবাইল চার্জার সবকিছুই ইচ্ছে মতো ব্যবহার করা যায়। ডাউন পেমেন্ট দেওয়াটা কষ্টকর হলেও কষ্ট করে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তি শোধ করে দিতে পারলেই সারাজীবনের জন্য সোলার হোম সিস্টেমের মালিক হওয়া যায়। এছাড়া সর্বমোট দাম হিসেব করলে ওয়ারেন্টিকালিন সময়ের মধ্যেই প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ টাকা করে খরচ হয় যা অন্য যেকোন ব্যবস্থার থেকে লাভজনক। তবে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় কিস্তি পরিশোধ যখন শেষ হয়ে যায় ঠিক ঐ সময়গুলোতেই পুরো সিস্টেমের আর কার্যক্ষমতা থাকে না। তাছাড়া কিস্তিতে সোলার নেওয়া মানে মাকড়সার জ্বালে নিজেকে আটকানো। তবে এই ব্যবস্থায় ক্রয় করলে কিস্তি পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত যেকোন সময় সার্ভিস পাওয়া যায় ফলে অন্ধকারে থাকতে হয় না।
রবির আলোয় আলোকিত গ্রাম, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার একটি ইউনিয়ন ছিনাই। সেই ছিনাই ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে ধরলা নদীর পাশেই একটি গ্রাম কালুয়ার চর। নদী ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত গ্রামটি থেকে ধরলা নদী এখন দূরে সরে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন হয়েছে এখন। অতি সহজেই যাওয়া যায় কালুয়ারচরে। মোবাইল ফোন কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেড সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রবির আলো প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মোট ৬০২ পরিবারে বিনা মূল্যে সৌর বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে মেগা গ্রিড প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কুড়িগামের কালুয়ারচর গ্রামের ১৫০টি পরিবারকে বিনামূল্যে সৌর বিদ্যুৎ সরবারহ করার মাধ্যমে রবি তার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সম্প্রসারিত প্রকল্পেন অংশ হিসেবে কালুয়ারচর, কিসমত ছিনাই ও চরজয়কুমারে বেশিরভাগ পরিবারকে এ সেবার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। মোট পাঁচটি ইউনিটের ৪২টি প্যানেল ও ৬৬টি ব্যাটারির মাধ্যমে রবির আলো প্রকল্প ছিনাই ইউনিয়নে পরিচালনা করছে। রবির এই ইউনিটগুলো দেখভাল করা এবং সাময়িক/সরল কোন অসুবিধা দূর করার জন্য মোবইল কোম্পানী রবি’র পক্ষ থেকে স্থানীয় তিন জন মেকারকে নিয়োগ দিয়েছে। রবির পক্ষ থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন কর্মী মফিজুল ইসলাম বলছিলেন, নিজস্ব ইলেকট্রিক জ্ঞান দিয়েই তারা সরল সমস্যাগুলোর সমাধানের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে থাকেন। রহিম আফরোজের সাথে রবির ৫ বছরের পরিবর্তনযোগ্য গ্যারান্টি থাকায় কোন সমস্যা হয়না, জটিল কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা সোলার সিস্টেমটি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজের কর্মীদের খবর দিরে ঠিক করে দিয়ে যায়। তবে এ প্রসঙ্গে রবি পরিবারের সেবা প্রাপ্ত কালুয়ারচর পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলছিলেন, রবির সাথে রহিম আফরোজের সেবা চুক্তি ৫ বছরের। এরপর আর কোন ফ্রি সেবা তারা দিবে না। তাই আমরা গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে বসেছি কয়েকবার। গ্রামবাসী সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা একটা সমিতি করবো যেখানে রবির সেবা প্রাপ্ত পরিারগুলো অল্প করে টাকা জমাবে। যে টাকা দিয়ে পরবর্তীতে সোলার গ্রিডের কোন সমস্যা দেখা দিলে খরচ করা হবে।
কোন সমস্যায় পড়লে জানানোর জন্য প্রত্যেকটি রবি পরিবারকে অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে একটি করে রবি সিম। এ প্রসঙ্গে কালুয়ারচরের গফুর মিয়া বলেন, ধরে নিলাম যে পরিবারগুলো রবি সিম ক্রয় করেছে কেবল সেই পরিবারকেই রবির সোলার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কমবেশি পূর্বেও কালুচরের বাসিন্দারা রবি সিম ব্যবহার করত। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি আর্থিক হিসাব তুলে ধরেন যা হলো- বর্তমানে রবি পরিবারের মধ্যে মোট ৫৯০টি পরিবার রবি সিম ব্যবহার করে। গড়ে পতিটি পরিবার প্রায় ৩০০ টাকার মতো ব্যবহার করে। অর্থ্যাৎ প্রতিমাসে কারুয়ার চর থেকে রবি কোম্পানিকে মোট প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি গফুর মিয়া পূর্বের আলো জ্বালানো বাবদ খরচ তুলে ধরেন। রবির সোলার বাতি আসার আগে চরের বাসিন্দারা আলো জ্বালানোর জন্য কোরোসিনের বাতি ব্যবহার করতো। প্রতিদিন বাতি জ্বালানোর জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকার কোরোসিন খরচ হত। সেই হিসেবে প্রতিমাসে প্রত্যেকটি পরিবারকে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকার কোরোসিন খরচ করতে হতো বাতি জ্বালানোর জন্য। প্রতিমাসে কালুয়ারচর গ্রামের সকল বাসিন্দারা কোরোসিন বাবদ খরচ ছিল প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা। কালুয়ার চরের আলো জ্বালানো বাবদ খরচ কমার পাশাপাশি তারা এখন স্বচ্ছ আলো পাচ্ছে। কালুয়ারচরের তিনটি গ্রামের শিশুরা এখন রবির আলোয় পড়াশোনা করতে পারে। প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর এ শিশুদের অনেকেই কিছুদিন আগেও সন্ধ্যার পরে কুপির তেলের অভাবে দিনের আলোতেই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হতো। এখর আর সেই দৃশ্যপট নেই ঠিক ঘড়ির কাঁটায় যখন ৫টা ৪০ মিনিট তখনই গ্রামের ঘরগুলোতে জ্বলে উঠে রবির বসানো সোলার প্যানেলের দুটি করে বাতি। রবির দেওয়া সোলার প্যানেলের বাতি গ্রামবাসির জীবনে এনে দিয়েছে অনেক পূর্ণতা। রবির উদ্যোগে প্রত্যেকটি রবি পরিবারে আরো দেওয়া হয়েছে একটি করে বন্ধু চুলা। বন্ধু চুলায় রান্না করে গ্রামবাসি খুব খুশি কারণ এ চুলার ধোঁয়া তাদের চোখে লাগে না। গ্রামটির সাধারণ মানুষও ফোন কোম্পানি রবিকে যেন আপন করে নিয়েছে সোলার বিদ্যুৎ এর কারনে।
সোলার মিনি গ্রিড , সন্দ্বীপ, নোয়াখালী
বাংলাদেশের দ্বীপ অঞ্চলের মা বলে খ্যাত মেঘনা মোহনার সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নে দেশের সর্ববৃহৎ সোলার মিনি গ্রিড ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ১০০ কিলোওয়াট উৎপাদন সক্ষম এই সোলার মিনি গ্রিড থেকে সর্বমোট ২৪৫টি বানিজ্যিক এবং ৩৫টি আবাসিক গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। তবে ২০১০ সালে উদ্ভোধনের সময় মিনি গ্রিডটির গ্রাহক ছিল মাত্র ১০ জন। শূন্য দশমিক ছয় একর জায়গার উপর গড়ে উঠা প্রকল্পটির ব্যয় হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা যার ৫০ শতাংশ জার্মান বেসরকারি সংস্থা কেএফডব্লিউ, ৩০ শতাংশ ইডকল এবং উদ্যেক্তা সংস্থা পূরবী গ্রীণ এনার্জী লিমিটেডের ২০ শতাংশ অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ব্যবস্থাপক কায়সার আহমেদ বলেন, ১০০ কিলোওয়াটের সোলার মিনি গ্রিড প্রকল্পের মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপজেলার একটি অংশের মানুষ সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুতের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। পূরবী গ্রীণ এনার্জি লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী শকাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পে ২০০ ওয়াটের ৩২৪টি ও ১৩৫ ওয়াটের ২৪০টি প্যানেল ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। গবেষিত সন্দ্বীপ উপজেলার বেশিরভাগ তথ্যদাতাই জানান, বর্তমানে সোলার মিনি গ্রিড থেকে সংযোগ নিতে ৫ হাজার টাকা দিতে হয় যা সর্বসাধারণের আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপর্ণ নয়। সোলার মিনিগ্রিড ব্যবহারকারী পিপাশা রানী জানান, ছেলের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য ৫ হাজার টাকা খরচ করে সোলার মিনি গ্রিড থেকে সংযোগ নিয়েছি। পিপাসা রানী জানান, সন্দ্বীপের ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পায় মাত্র ৩ ঘন্টা সেই তুলনায় সোলার মিনি গ্রিডের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পাচ্ছে ১৩ ঘন্টা। এছাড়া ডিজেল বিদ্যুৎ সংযোগের গ্রাহকদের রাত ১০ টার পরে আর বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ডিজেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রাহকদের রাতে কোরোসিন বাতি ব্যবহার করতে হয়। গরমকালে পাখা ব্যবহার করতে হয়। তবে পিপাসা রানী অভিযেগের স্বরে বলেন একই যায়গা থেকে ডিজেল কেন্দ্রের গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে ৬ টাকা প্রতি ইউনিট অন্যদিকে তাদের অথ্যাৎ সোলার গ্রিডের গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে ৩৪ টাকা প্রতি ইউনিট। বেশিরভাগ সোলার মিনি গ্রিডের সংযোগ ব্যবহারকারী বলেন, যদি সোলার গ্রিডের সংযোগ ফ্রি হত এবং ইউনিট প্রাতি দাম একটু কম হত তবে কম আয়ের লোকজনের সংযোগ নেওয়া সহজ হত। সোলার মিনি গ্রিডের আবাসিক গ্রাহক রহিমা বেগম গ্রিডের সমস্যার বিষয়ে জানান, ঘরে সোলার বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ১০ টার পরে কেরোসিন বাতি অথবা মোমবাতি ব্যবহার করতে হয় ফলে ৩৪ টাকা প্রতি ইউনিট বিল দেবার পরেও বাতি জ্বালানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সোলার মিনি গ্রিডের আরেকজন আবাসিক গ্রাহক সঞ্জয় সূত্রধর বলেন, সোলার মিনি গ্রিডটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাত দিন ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে অথবা দিনের বেলার চেয়ে রাতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বর্তমানের চেয়ে নতুন এরা অনেক গ্রাহক বাড়বে বলে তার ধারণা।
পুকুরিয়া ইকো ভিলেজ, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ ২০০৩ সালে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের পুকুরিয়া বা আউয়াল পাড়া গ্রামের পুকুরিয়া ইকোভিলেজ এর যাত্রা শুরু করে। এই প্রকল্পের আওতায় প্লান্ট হতে ১৪টি সোলার হোম লাইট সংযোগ সুবিধা মোট ৩১টি পরিবারে দেয়া হয়ে ছিল। ২০১০ সালের শেষের দিকে পুকুরিয়া গ্রাম পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আসার ফলে বিএমডিএ ২০১১ সালে পরিবার ভিত্তিক সংযোগগুলো বিছিন্ন করে। বর্তমানে শুধুমাত্র এই প্রকল্পের আওতায় সৌরবিদুৎ চালিত খাবার পানি সরবারহ ও ব্যবস্থাপনা প্লান্ট চালু আছে। এই প্লান্ট হতে ১৫টি ট্যাপের মাধ্যমে মোট ৩১টি পরিবারে পানি সরবারহ করা হয়। উল্লেখ প্রতিদিন প্রায় ১০,০০০ লিটার খাবার পানি সরবারহ করা হয়।
সৌর সেচ প্রকল্প ঃ কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে সম্ভাবনা যাচাই
গবেষিত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, জ্বালানি সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারন করে কৃষি সেচের সময়। কুড়িগ্রাম জেলার ভুরঙ্গামারী উপজেলা অঞ্চলটি চরাঞ্চল হলেও সেখানে মৌসুমী ধানের আবাদ করা হয়। এক্ষেত্রে ডিজেল দিয়ে স্যালোমেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস ফসল মৌসুম ধরা হয়ে থাকে। এই সময় লোড শেডিং এর পরিমান সর্বোচ্চ হয় যা কাক্ষিত ফসল উত্তোলনে প্রধান অভাব। সেই সময় নিয়মিত সেচ না দেবার কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় যা পরোক্ষভাবে উপজেলার মোট কৃষির উৎপাদনকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। চরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, একজন দরিদ্র কৃষক এক বিঘা জমি সেচ দিতে প্রায় ২৮০০ টাকার ডিজেল খরচ করতে হয়। উক্ত কৃষক সময়মতো ডিজেলের আমদানি করতে না পারাসহ অন্যান্য কারনে ধানসহ অন্যান্য উৎপাদন থেকে দিন দিন নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছে। এক বিঘা জমিতে কৃষকের ডিজেল বাবদ যে খরচ হয় তা ঐ জমির উৎপাদিত ধান বিক্রি করে তুলে আনা সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা খরা হলে পুরো টাকাই শেষ হয়। এক্ষেত্রে শতভাগ ঝুঁকি নিয়েই কৃষককে চাষাবাদ করা হয়। উল্লেখ ভুরঙ্গামারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ভূরঙ্গামারী উিপজেলায় মোট ৫৭০০টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প আছে। ডিজেল ক্রয় করতে সরকারকে যে পরিমান ভতূর্কি দিতে হয় সেই পরিমাণ টাকা দিয়ে যদি সৌর বিদুৎ চালিত পাম্প তৈরিতে খরচ করা হয় তবে তা অনেক বেশি সফলতা বয়ে নিয়ে আসেবে। সরকার যেমন বিদুৎ উৎপাদনে ভতূর্কি দেয় ঠিক তেমনি যদি সৌর বিদুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপনে ভতূর্কি দেওয়া এবং তা কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে খাদ্য উৎপাদনে ভূরঙ্গামারী উপজেলা তথা বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। ভুরঙ্গামারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, কৃষি কাজে সৌরবিদুৎ চালিত পাম্প ব্যবহার যদি শুরু হয়, তবে এটি শতভাগ সফল হবে বলে মনে হয়।
সোলার সেচ প্রকল্প, টিয়াখালী ও নীলগঞ্জ, বরগুনা
দেশের উন্নয়নের সাথে কৃষকদের জীবন জীবিকার সংযোগ স্থাপনের উদ্দ্যেশে ২০১০ সালে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় নীলগঞ্জ ও টিয়াখালীতে পাঁচটি সোলার নির্ভর সেচ প্রকল্প চালু করে রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। নীলগঞ্জে দুইটি এবং টিয়াখালেিত তিনটি মোট পাঁচটি সোলার সেচ প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যায় ছিল ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। সোলার সেচ প্রকল্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমতলী উপজেলার নীলগঞ্জ ও টিয়াখালী এলাকার মাটি আদ্রতা সম্পন্ন এঁটেল বৈশিষ্ঠ্যের হওয়ায় বেশি পানি ধারন করে রাখতে পারে। মূলত মাটির এই বৈশিষ্ঠ্যের কারনেই এই এলাকাকে সোলার সেচ প্রজেক্টের জন্য বেছে নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মহাসেনের ফলে নীলগঞ্জের দুইটি সেচ প্রকল্প কাঠামোগত ও টেকনিক্যাল সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে। তবে বর্তমানে টিয়াখালীর তিনটি প্রকল্প চালু অবস্থায় রয়েছে যার মাধ্যমে ৩০ একর জমি চাষাবাদ করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষণ বিষয়ে সেচ প্রকল্পের মাঠকর্মী মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, সোলার সেচ প্রকল্পটি পরিচালনা করার জন্য গ্রাহক কৃষকদের সমন্বয়ে একটি সেচ প্রকল্প সংঠন রয়েছে। কৃষক সেচ সংগঠনটির সভাপতি মূলত কোন কৃষক কতটুকু পানি পাবে বা কোন কৃষকের জমিতে পানি দরকার সেটা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। সংগঠনের সভাপতির কাছেই থাকে সেচ প্রকল্প নিয়ন্ত্রের চাবি। টিয়াখালী সোলার সেচ প্রকল্পের পানি উত্তোলনের জন্য গভীর কূপ খনন না করে পার্শ্ববর্তী নীলগঞ্জ খাল হতে পানি উত্তোলন করে লম্বা পাইপের মাধ্যমে পানি সরবারহ করা হয়। পানি সরবারহ নিরবিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রতিটি প্রকল্পে একটি করে ডিজেল পাম্প দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি বা মেঘাচ্ছন্ন থাকার ফলে যদি সোলার কাজ না করে তবে ঐ সময়য়ে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করে পানি সরবারহ নিশ্চিত রাখা হয়। সোলার সেচ পাম্পের গ্রাহকরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ডিজেল পাম্পটি অন্য কোন কাজেও লাগাতে পারে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন বছর কৃষকদের কাছে সেচ বাবদ কোন চার্জ নেওয়া হয়নি তবে এ বছর থেকে সেচ বাবদ চার্জ নেওয়া হবে বলে জানান সেচ প্রকল্পের মাঠকর্মী মো. জিয়া। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর থেকে জমিতে সেচ দেওয়ার চার্জ বাবদ জমিতে উৎপাদিত ফসলের চার ভাগের একভাগ দিতে হবে সোলার সেচ প্রকল্পকে। টিয়াখালী সোলার সেচ প্রকল্পের গ্রাহক কৃষকরা সেচ প্রকল্পের কাছে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন-
ক্স সেচের জন্য নির্ধারিত চার্জ ফসলে চার ভাগের একভাগ দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের জন্য অনেক বেশি। বোরো মৌসুমে মোটর ডাল চাষাবাদ করার জন্য মাত্র একবার সেচ দিতে হয়। একবার সেচের জন্য যদি ফসলের একভাগ সেচ প্রকল্পকে দিয়ে দিতে হয় তবে ডিজেল মেশিন দিয়ে সেচ খরচের থেকেও বেশি। উৎপাদিত ফসলে চারভাগের একভাগ না নিয়ে নগদ টাকা নির্ধারণ করে দিলে কৃষকদের আগ্রহ বেশি থাকবে।
ক্স স্থায়ী ড্রেন না থাকায় অনেক সময় পানির অপচয় হয়। আবার মাটির উপর দিয়ে ড্রেন করলে জমির অপচয় হয়। তাই স্থায়ীভাবে মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন করে দিলে পানির অপচয় রোধ হবে।
ক্স একই দিনে সব জমিতে পানি প্রয়োজন হয়না আবার একই চাষীর বিছিন্ন জমিতে একসাথে চাষের সুবিধার্থে একই সময় সেচের প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় দেখা যায় একজন কৃষককে পানি আগে দিলে অন্য কৃষকের সাথে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় কৃষক সভাপতি প্রভাব খাটিয়ে তার কাছের কৃষকদের আগে পানি সরবারহ করে। এক্ষত্রে কৃষক সভাপতি এমন একজনকে হতে হবে বা করতে হবে যে নিরপেক্ষভাবে সবাইকে পানি সরবারহ করবে। আর ড্রেনগুলো স্থায়ীভাবে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন যার যখন দরকার সে তখন পানি নিজেই সরবারহ করতে পারে। সেক্ষেত্রে মিটার ব্যবস্থা চালু করলে কোন কৃষক বেশি কোন কৃষক কম নিতে পারবে না।
ক্স যেহেতু পানি খাল থেকে সরবারহ করা হয় তাই অনেকাংশে খালের পানির সরবারহ বা পর্যাপ্ততার উপর সোলার সেচ প্রকলকে নির্ভর করতে হয়। তাই নির্দিষ্ট খারটি দুই/তিন বছর পর একবার খননের ব্যবস্থা করা হলে পানি সরবারহ নিরবছিন্ন থাকবে বলে কৃষকরা মনে করে।
ক্স স্থায়ী কোন ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় সোলার সিস্টেমটি নষ্ট হয়ে গেলে ঠিক হতে সময় লেগে যায় ফলে কৃষকদের ঐ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। স্থায়ী কোন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ অথবা স্থানীয় কোন ব্যাক্তিকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলা যেতে পারে।
ক্স অনেক সময় খালে লোনা পানির স্রোত ঠুকে যায় যা ফসলে জন্য ক্ষতিকর । সেক্ষেত্রে গভীর কূপ খনন করে লোনা পানি আসার আগই পানি মজুদ করে রাখা যেতে পারে।
কিছু সমস্যা থাকা স্বত্বেও টিয়াখালীর কৃষকরা সোলার সেচ প্রকল্পকে তাদের কৃষির জন্য অন্যতম নিয়ামক হিসেবে গ্রহণ করেছে। উপস্থিত সকল কৃষকরা বলেন, পৃথিবীতে সকল জিনিসেরই কোন না কোন সমস্যা থাকেই। আমরা সকলে মিলে সোলার সেচ প্রকল্পের সমস্যাগুলো দূর করে আরো ভালো সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করবো।
সূর্য্য জ্বালানি ঃ আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ
আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে জ্বালানি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। যদিও গবেষণাধীন এলাকাতে খুব বেশি পরিমানে পরিবারকে পাওয়া যায়নি যারা জ্বালানিকে তাদের আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের অংশ করে নিয়েছে। মোট ৬৭০টি পরিবারে মধ্যে মাত্র ১৬.১% পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ্যভাবে সূর্য্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের সাথে জড়িত রয়েছে।
টেবিল ঃ ০৩ ঃ জ্বালানি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ
সংখ্যা (জন) % শতাংশ
আয়ের সাথে যুক্ত নয় ৫৬২ ৮৩.৯
আয়ের সাথে যুক্ত ১০৮ ১৬.১
মোট ৬৭০ ১০০.০
মেহেরপুর উপজেলার মহাজনপুর বাজারের প্রায় ৩৩ ব্যবসায়ী যারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। স্থাপিত সোলার সিস্টেমগুলো প্রত্যক্ষভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রয় বিক্রয়ে ভূমিকা পালন না করলেও পরোক্ষভাবে অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে।
২৩ বছর বয়ষ্ক শ্রী চঞ্চল মহত গাইবান্ধার ফুলছড়ি বাজারে মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করে। গত ৭ থেকে ৮ বছর হলো মুদি ব্যবসা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মোবাইল চার্জ দেবার ব্যবসা করেন। শ্রী চঞ্চল মহত জানান, ফুলছড়িতে ছোট বড় অনেক চর রয়েছে। চরের জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সেখানে হয়ত কখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভবও না। চরের অনেকেরই মোবাইল রয়েছে কিন্তু তারা চার্জ দিতে পারে না। ফলে অনেক চিন্তাভাবনা করে আমি মোবাইল চার্জ দেবার ব্যবসা শুরু করলাম। কারণ মোবাইল একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সেবা মাধ্যম। এছাড়াও চরে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ সোলার ব্যবহার করেন। সোলার ব্যবহার করলেও বেশিরভাগই বাতি জ্বালানো ছাড়া অন্য কোন সংযোগ গ্রহণ করেনি। চঞ্চল দৈনিক গ্রাহকদের ১০০ থেকে ১৫০টি মোবাইল চার্জ করে দেন। প্রতিটি মোবাইল চার্জ বাবদ তিনি ৫ থেকে ১০ টাকা নেয়। তার বেশিরভাগ গ্রাহক গলনার চর, কাতলামারি, গাবগাছির চর থেকে আসে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবারহ নিয়মিত না হওয়ায় চঞ্চল সোলার হোম সিস্টেম ক্রয় করেছে। সোলার ক্রয় করার পরে তার ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত হয়েছে। এখর গ্রাহকদের আর ফেরৎ দিতে হয় না। চরের জনগণকে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দিতে পেরে চঞ্চল আনন্দিত ভবিষতে তিনি মোবাইল চার্জের ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত করতে চান।
নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর এ উদ্যোগ অবশ্যই ভালো তবে তা এখনও বিদ্যুতের একমাত্র বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের অবস্থায় নেই। একথা সত্য যে, বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুতের প্রসার ঘটছে কিন্তু দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষকে দরিদ্র সীমার নিচে রেখে এবং সম্পদের ৯০ শতাংশের মালিক যে দেশে ১০ শতাংশ লোক সেই দেশে জ্বালানি শক্তি মতো বড় উদ্যোগগুলো রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
অষ্টম অধ্যায়
কত কিস্তি টানমু? জানে আর কত কুলায়?
কারিগরি সহযোগীতা পাওয়া যায় না
পণ্যের গুনগত মান ভালো নয়
প্রাকৃতিক দূর্যোগে সিস্টেম অচল হয়ে যায়
বিক্রয়োত্তর সেবা সহজে পাওয়া যায় না
সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে আমরা কতজন জানি?
স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা
জ্বালানি সমস্যাগুলো মানুষের জীবন ও সংষ্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মানুষ জ্বালানির এই সমস্যাকে খুব বেশি সমস্যা মনে করে না। দরিদ্র শ্রেণী আসলে ভেবেই নিয়েছে এটাই তাদের জীবন ব্যবস্থা। বিদ্যুতের সুবিধা দরিদ্র জনগণ পেতে আগ্রহী। কিন্তু আমরা জানি চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। তাই দরিদ্র জনগণ সোলারের সুবিধা নিতে পারে যদি সরকার এক্ষেত্রে ভর্তূকি প্রদান করে। এছাড়াও কম মূল্যে বিক্রি করা হলেও এর সুবিধা কম আয়ের জনগোষ্ঠি নিতে পারে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় গ্রামভিত্তিক সোলারের বড় প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে যার রক্ষনাবেক্ষণ জনগণ ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা নিয়ে করবে। গবেষনাধিন এলাকার জ্বালানি সমস্যার সমাধান এবং দরিদ্র বা কম আয়ের জনগোষ্ঠিভুক্ত পরিবারগুলোকে সহজেই জ্বালানি সেবায় অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়ে তথ্যদাতা ও তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশ কিছু পরামর্শ এবং তাদের কিছু পরিকল্পনা উঠে এসছে
ক্স দৈনন্দিন ব্যবহৃত জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী করা অর্থ্যৎ কম আয়ের জনগোষ্ঠির আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারন করা। পাশাপাশি অফ-গ্রিড এলাকাতে সোলার হোম সিস্টেম ক্রয়ের ক্ষেত্রে কম আয়ের জনগোষ্ঠির কথা মাথায় রেখে সহজ কিস্তি অথবা দীর্ঘ মেয়াদি কিস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানি বা এনজিও ৩ বছরের কিস্তিতে সোলার হোম সিস্টেম বিক্রি করে থাকে। এই কিস্তির সময় ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হলে দরিদ্র আয়ের জনগোষ্ঠি এ সুফল ভোগ করতে পারবে সহজেই।
ক্স নগদে বা কিস্তিতে যেভাবেই হোক যদি একটি সোলার ব্যবস্থা দুইটি পরিবার একত্রে ক্রয় করতে পারে তবে দামে সাশ্রয়ী হবে। তবে এর বিপক্ষেও অনেকে মতামত দেন, যোৗথভাবে নিলে ঝগড়া বিবাদ হতে পারে।
ক্স সরকার যেভাবে ভিজিএফ কার্ড বিতরন করে ঠিক একইভাবে দরিদ্র পরিবার নির্বাচন করে সোলার হোম সিস্টেম বিতরন করা যেতে পারে, তবে অনেক বেশি জাতীয় জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে তথ্যদাতারা মনে করে।
ক্স সোলার হোম সিস্টেম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্ট এর অর্থ শুরুতে কম নিলে অনেক পরিবারই এই সেবা নিতে আগ্রহি। গবেষণাধীন এলাকার বেশিরভাগ তথ্যদাতাই জানান, ডাউন পেমেন্ট ১০০০ টাকা বা এর নিচে হলে অধিকাংশ পরিবারই এর সুবিধা নিতে পারবে। মাসিক কিস্তি যদি মাসিক তেল খরচের সমান হয় অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা তবে এককভাবেই বেশিরভাগ পরিবার সোলার হোম সিস্টেম নিতে পারবে।
ক্স কোন ডাউন পেমেন্ট না রেখে সোলার হোম সিস্টেমের দাম যদি সহজ কিস্তিতে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবার এটি নিতে পারবে। অথবা ডাউনপেমেন্ট দেবার জন্য একমাস বা দুইমাস সময় দিয়ে এর পর সিস্টেম দিলে সেটা সবার জন্য উপকার হবে।
ক্স শুরুতে ডাউনপেমেন্ট নিয়ে সিস্টেমের বিক্রয়োত্তর সেবা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করলে এবং সিস্টেমের বাকি অর্থ ৫ বছরের মধ্যে ভাগ করে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করলে অধিকাংশ দরিদ্র মানুষই তা নিতে পারবে।
ক্স বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। গবেষণাধীন এলাকাতে বছরে সাধারণত তিনটি মৌসুমে চাষাবাদ হয়। যদি ফসল কাটার পরে সিস্টেমের কিস্তিগুলো নেবার ব্যবস্থা করা হয় তবে বেশিরভাগ পরিবারের জন্যই সোলার সিস্টেম নেওয়া সম্ভব হবে।
ক্স সোলার হোম সিস্টেমের প্যাকেজ মূল্য কমিয়ে আনলে সহজেই সকলের জন্য সহজসাধ্য হবে, যেমন- ২০ ওয়াটের সোলার হোম সিস্টেমের বর্তমানে বাজারমূল্য থেকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা কমিয়ে আনা সম্ভব হয় তবে এনজিওগুলো কম লাভে বেশি বিক্রি করতে পারবে। অন্যদিকে দরিদ্র মানুষগুলোও এর সুবিধা নিতে পারবে।
ক্স নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দরিদ্র আয়ের জনগোষ্ঠির ব্যবহার প্রসঙ্গে ব্র্যাক ভূরঙ্গমারী উপজেলা সোলার বিক্রয় ও সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জানান, তারা যেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহজেই ব্যবহার করতে পারে তার জন্য ব্র্যাক নিজেই পণ্য তৈরি করছে। সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এমন চার্জার বের করা হচ্ছে যার মূল্য পরবে ২৬০০ টাকা থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে।
ক্স যেসব দেশ থেকে সোলার হোম সিস্টেমের সকল সামগ্রি আমদানি করে সেখানে আমদানির সময় শর্ত দিয়ে যদি আমদানি করা যায় যে নির্দিষ্ট সময় পরে তৈরির প্রযুক্তিও বাংলাদেশক দিতে হবে। বাংলাদেশে যদি ঐ একই প্রযক্তি ব্যবহার করে সোলার হোম সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হয় তবে দাম অর্ধেকে নেমে আসবে।
ক্স মাসিক বিল পরিশোধ সাপেক্ষে একটি গ্রামে অথবা বেশ কিছু পরিবারকে কেন্দ্র করে সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। টেকনাফ উপজেলার একজন শিক্ষক বলছিলেন, সোলারের সম্ভাবনা আমাদের দেশে অনেক বেশি কিন্তু এর ব্যয় আমাদের মত সাধারন মানুষের পক্ষে যোগার করা সম্ভব নয়। সরকার বা কোন এনজিও যদি বড় আকারেরর প্লান্ট বসিয়ে বিদ্যুতের মতো মিটার ব্যবস্থা রেখে সরবরাহ করে তবে সর্বস্তরের মানুষ এর সুবিধা পাবে। তবে সেক্ষেত্রেও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিট দাম নির্ধারণ করতে হবে।
ক্স সরকারি এবং বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার এনার্জি কেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে যেখান থেকে পরিবার ভিত্তিক ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা বা সংযোগের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
ক্স নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা উন্নত চুলা দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে সেবা প্রদানকারী বুথ তৈরি করার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্স নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কম আয়ের লোকজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
ক্স গবেষিত চরাঞ্চলের মধ্যে ফুলছড়ির কালোসোনা চরের বসবাসকারী জনগণ জানান বিভিন্ন এনজিও তাদেরকে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যে সব সম্পদ তাদের কাছ হস্তান্তর করে সেগুলোর কোন কোন সম্পদ তাদের প্রয়োজনে তেমন আসে না। নির্দিষ্ট সেই সব সম্পদ না দিয়ে রিলিফ হিসেবে সোলার হোম সিস্টেম দিলে প্রত্যেকটি পরিবার উপকৃত হত।
ক্স গবেষিত অঞ্চল কলমাকান্দা উপজেলার বামনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদল্লাহ কম আয়ের গ্রামীণ লোকজনের সোলার ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, জনসংগঠন তৈরি করে সংগঠনভিত্তিক সোলার হোম সিস্টেম ক্রয় করতে পারে। পরবর্তীতে কিস্তির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ না করে জনসংগঠনের সদস্যরা মাসিক বিলের মাধ্যমে সিস্টেমের কিস্তি পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা ফুলছড়ির এনজিও কর্মী শহিদুল ইসলাম বলেন, যে সকল পরিবার গুচ্ছাকারে বসবাস করে তাদেরকে একটি বড় প্যানেল থেকে সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। ৮৫ ওয়াটের সোলার হোম সিস্টেম এককভাবে নিলে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক সর্বনিন্ম ৩০০ টাকা কিস্তি প্রদান করতে হয় কিন্তু যৌথভাবে নিলে কিস্তির পরিমান হবে মাত্র ১৩৮ টাকা। এক্ষেত্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ৮৫ ওয়াটের একটি সিস্টেম থেকে ৯টি পরিবারকে ৯টি বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা যাবে। একইভাবে বাজারের দোকানদাররা গুচ্ছ পদ্ধতিতে সোলার সিস্টেম ক্রয়ের চিন্তা করতে পারে।
ক্স সরকারি বিভিন্ন কাজ যেমন রাস্তার উন্নয়ন কাজ বা যেকোন সরকারি উন্নয়ন কাজ করানোর জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী প্রচলিত আছে। ঠিক একইভাবে কাজের বিনিময়ে গুচ্ছ ভিত্তিতে সোলার সিস্টেম দিতে পারে।
পৃথিবীর সবচে বড় ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের সুন্দরবন। সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুন্দরবন পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এক কার্বণ-শোষণাগার হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর সবচে বড় মানব পতাকা ও সবচে বেশী মানুষ জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছে বাংলাদেশেই। বাংলাদেশই বিশ্বের বৃহত্তম তথ্য বাতায়ন তৈরি হয়েছে।
পৃথিবীতে জ্বালানী ও বিদ্যুৎক্ষেত্রেও নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশ
অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র পরিবারগুলো সমাজের অন্যান্য শ্রেণীর তুলনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি। তাদের ভাষার ব্যবহার ও তাদের সংষ্কৃতির সাথে দারিদ্রতার চিহ্ন লেগে আছে। নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে পরিবর্তন সম্ভবপর হয়ে উঠে না। এই সকল জনগোষ্ঠি অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সুযোগে অংশগ্রহণ করতে পারে না। নিজেদের মানসিক পরিবর্তন করতে চাইলেও সমাজ তাদের গরিব হিসেবেই দেখতে চায়। কেননা সমাজের একশ্রেণীর মানুষ যারা সকল সুযোগ সুবিধার কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থান করে তারা দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে উচ্চবিত্ত বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে এই সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠি যারা সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে অবস্থান করে। যাদের ইচ্ছা থাকলেও বিদ্যুৎ নেওয়ার সুযোগ নেই আবার সুযোগ থাকলেও অর্থের অভাবে তা পূরণ করতে পারছে না। বহু যুগধরে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে কুড়িয়ে পাওয়া বায়োমাস। আর আলো জ্বালানোর জন্য বিদ্যুতের অভাব পূরণ করছে কোরোসিনের মাধ্যমে। এই সকল ছেলে মেয়েদের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে কোরোসিনের মধ্য দিয়ে।
দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই আমাদের বিকল্প চুলা এবং জ্বালানির কথা ভাবতে হবে। কারণ ক্রমাগত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে জলবায়ুর প্রভাবজনিত নেতিবাচক প্রভাবগুলো তরান্বিত হচ্ছে। একথা সত্যি যে, ক্ষতিকর কার্বন নির্গমনজনিত জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদশের তেমন কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু পরিবর্তিত অবস্থার সাথে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে খাপ খাইয়ে চলার কৌশৈলগুলো অবলম্বন করতে হবে। যেমন: বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমেই পরিবেশের দূষণের মাত্রা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। এতে একদিকে যেমন জ্বালানির সাশ্রয় হবে তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের মোকাবেলা করাও কিছুটা হলে সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে সৌরবিদ্যুৎ, উন্নত চুলা ও সৌর চুল্লি, বায়োগ্যাস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি এলাকার বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা হ্রাস করা যেতে পারে। এছাড়া সৌরচুল্লি, উন্নত চুলা ও বায়োগ্যাস প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে কয়টি দেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তির পথ হলো পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে চলা। তাদের মতে, বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও উন্নত চুলা কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে বাতাসের ক্ষতিকর কার্বন উদগীরন যেমন হ্রাস করা যায় অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। তাদের মতে, ১ বছরে প্রতিটি উন্নত চুলা থেকে ১.৮ টন, প্রতিটি বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে ২ টন এবং প্রতিটি সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে গড়ে ১৮০ লিটার জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। অথচ এসব জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ টন কার্বন বাতাসে নির্গত হচ্ছে। এত বিশ্ব উষ্ণায়নেও প্রভাব পড়ছে। কাজেই জ্বালানির সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সীমিত বনজ সম্পদ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য এখনই আমাদের বিকল্প চুলা ও জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংযুক্তি
সংযুক্তি : ০১
(ছবি)
‘নবায়নযোগ্য জ¦ালানী ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক পরামর্শ সভা
বিজয় হল, বিদুৎ ভবন মিলনায়তন, ১ আব্দুল গণি রোড, ঢাকা।
২৬ জুলাই, ২০১৪
আয়োজনে: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বারসিক
প্রধান অতিথি: জনাব নসরুল হামিদ বিপুমাননীয় প্রতিমন্ত্রী,বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রনালয়
অতিথি: অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব এনার্জি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানী সমিতি
: অধ্যাপক এম. এম আকাশ, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
: অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়
: মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, উপ-সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ
: সিদ্দিক জোবায়ের, যুগ্ম-সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন: মো. এরশাদ আলী, গবেষক, বারসিক
সভাপ্রধান: অধ্যাপক খন্দকার বজলুর রহমান,ভাইস- চেয়ারম্যান, বাপা
সঞ্চালনা: ডা. আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন
কর্মসূচী রিপোর্ট:
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং কৃষি-প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে কর্মরত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বারসিক গত ২৬ জুন ২০১৪, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় মিলনায়তনে ‘নবায়নযোগ্য জ¦ালানী ব্যবস্থায় দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক পরামর্শ সভার আয়োজন করে। পরামর্শ সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ, সরকারের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিবর্গ, বিশেষজ্ঞবৃন্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দসহ নানা স্তরের মানুষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিদুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, জনাব নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, দেশব্যাপী জ্বালানি ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে, বৈষম্য হলো যাদের বিনামূল্যে বিদুৎ পাওয়া দরকার তারা পাচ্ছেনা। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো খুবই সচেতন বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিন্তু কম উন্নত দেশগুলো নয়। তিনি পরিকল্পিতভাবে বিদুৎ ব্যবহার করে এই সংকট সমাধানের তাগিদ দেন। তিনি আরো বলেন, আগামী ২০২১ কে কেন্দ্র করে আমাদের একটা মাস্টার প্ল্যান রয়েছে আর তা হলো আমরা ৮০ ভাগ মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পাহাড়, চর, দ্বীপ সহ অনেক দুর্গম অঞ্চল রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান টার্গেট এই অঞ্চলগুলো। তিনি পরিকল্পিতভাবে সকলের কাছে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া এবং এর বৈষম্য দূর করার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান এবং সোলার ব্যবসায়ীদের গুনগতমান বজায় রেখে ব্যবসা করার জন্য আহবান জানান এবং আরো কম লোনে গ্রাহকরা কিভাবে সোলার পেতে পারে তা দেখার আশ্বাস প্রদান করেন। আমাদের উচিত হবে জ্বালানীর পরিমিত ব্যবহারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সরকার জনগণের আর আমরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই আমরা বদ্ধ পরিকর জনগণের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে।
উক্ত পরামর্শ সভায় সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুর হক। পরামর্শ সভায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাবায়নযোগ্য জ্বালানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম, বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব সিদ্দিক জোবায়ের সহ প্রমূখ। পরামর্শ সভাটি সঞ্চালনা করেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা.আব্দুল মতিন। সভায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন বারসিকের গবেষক মো. এরশাদ আলী। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সমন্বয়কারী সৈয়দ আলী বিশ্বাস, সমন্বয়কারী এবিএম তৌহিদুল ইসলাম, সহ সমন্বয়কারী মো: জাহাঙ্গীর আলম, নাজমা আক্তার, লিপি কর, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, বাপার মিহির বিশ্বাস প্রমূখ ।
সভায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নারী-পুরুষসহ আগত অংশগ্রহনকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিষয়ে তাদের অবস্থা তুলে ধরে এবং প্রতিনিয়ত তারা জ্বালানী ক্ষেত্রে কি কি সংকটের মুখোমুখি হয় তা মাননীয় মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের রিপন হোসেন বলেন, আমাদের চরাঞ্চলে প্রচুর গরু পালন হয় এবং এ থেকে প্রচুর গোবর পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করা সম্ভব। তবে আমার মতো কম আয়ের লোকের পক্ষে প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব নয় কারণ একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা লাগে যা আমাদের সাধ্যের বাইরে। সরকারী বা কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা লোনের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের পক্ষে সম্ভব। নেত্রকোনার ঝর্ণা বেগম বলেন, সোলার নেয়ার জন্য আমাদের ৬/৭ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হয় এবং এর পর কিস্তি চালাতে হয়। আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা সহ সংসারের খরচ চালিয়ে যা বহন করা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। এ পর্যায়ে আমরা কি করতে পারি? রান্না বান্নার কাজেও খুব সমস্যা হয়। গাছের ডাল-লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হয় এবং এ থেকে শ্বাস কষ্ট সহ নানান শারীরিক সমস্যা হয়।
নাচোল, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে মাসুদ রানা বলেন, আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। ১০ মাইল দূর সোলার রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। আমাদের ওখানে সন্ধ্যার পর এবং বিশেষ করে রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ থাকেনা। আমরা জেনেছি সোলার থেকে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাই আমরা কিভাবে আমাদের এই চাহিদা পূরণ করতে পারি এ বিষয়ে কথা বলতে এবং শুনতে এসেছি। মানিকগঞ্জ, হরিরামপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমরা চর এলাকার মানুষ। চরে গরু, ছাগল সহ গবাদি পশু রয়েছে যদি এগুলো থেকে বায়োগ্যাস চালু করা যায় তবে আমাদের উপকার হয়। সোলারের দাম কমালে আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভাল হয়। আর বিদ্যুৎ এর ক্ষেত্রে ধনীদের ভর্তুকি না দিয়ে গরীব মানুষের জন্য ভর্তুকি দিলে অনেক ভাল হয়। শ্যামনগর থেকে অর্পনা জানান, আমাদের এলাকা খুবই গরীব এলাকা। আমরা প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকি। আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বনেরকাঠ, গোলপাতা , কেরোসিন আমাদের জ্বালানীর প্রধান জিনিস। আমাদের জন্য সহজ কিস্তিতে সোলার এবং বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করলে আমাদের অনেক উপকার হয়।
এস এম মনিরুল ইসলাম, ইটকল প্রতিনিধি বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে অনেক সমস্যা উঠে এসেছে। আমি অনুষ্ঠানে আগত সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। । নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ক্ষেত্রে আমাদের যে অগ্রগতি এই তথ্যটি বিশ্বব্যাপী পৌছাতে পারিনি এটা আমাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম প্রোগ্রাম বিশ্বে সবচেয়ে প্রশংসিত। বাংলাদেশের বাইরে ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে অনেকে আসছে এই সিস্টেমটি দেখতে। ইটকল চেষ্টা করছে সেসকল দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে। বাংলাদেশে একটি বড় উন্নয়ন হয়েছে। আমরা একটি বড় পরিকল্পনা এবং টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছি সরকারের সহযোগিতায়। এতোমধ্যে আমরা ১৫০ সেচ পাম্প সোলারের মাধ্যমে চালু করেছি। জাতীয় পর্যায়ে একটি বায়ু প্ল্যান ইটকল বাস্তবায়ন করে থাকে। ৩৩০০০ হাজার বায়ুগ্যাস প্ল্যান আমরা স্থাপন করেছি। এছাড়া পোল্ট্রি বেজ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আমরা কাজ করছি। এপর্যন্ত আমরা ২ টা বায়োম্যাস প্রকল্প শুরু করতে পেরেছি। আমরা সোলার বেজড মিল গ্রিড স্থাপন করেছি কয়েকটি অঞ্চলে। এটার প্রথম প্রজেক্ট ছিল সন্দীপে। সরকার ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের কাছ থেকে ফান্ড কালেক্ট করে ইটকলের মাধ্যমে এই প্রজেক্টগুলো চালাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ধন্যবাদ জানাই গ্রাম বাংলার এই মানুষদের যারা আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের কথা আমরা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছি কারণ উনারাই আমাদের টার্গেট। আমরা সকলেই অনেক বড় বড় কথা বলি কিন্তু যখন বাস্তব কাজের সাথে য্ক্তু হই সেটার যে উপলব্ধি তা খুবই কঠিন। আমরা সভ্যতার যে পর্যায়ে এসে পৌছেছি সেখানে জ্বালানী ব্যতিত কিছু ভাবতে পারিনা। আমি শ্যামনগর গিয়েছিলাম দেখেছি সেখানে মানুষ কতটা য্দ্ধু করে বেঁচে থাকে। সেখানে পানযোগ্য এক ফোটা পানি নাই। ১০ কি.মি দূর থেকে তাদের পানি নিয়ে আসতে হয়। আমরা চেষ্টা করেছি জেআইজেড এর সহায়তায় আইলা পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা করতে। এটা সত্য সেখানকার মানুষ সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা কাঠ খড় থেকেই তাদের জ্বালানীর ব্যবস্থা করা। আমরা সেখানে বন্ধু চুলার ব্যবস্থা করেছি। যদিও ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬০ ভাগ বলছে জ্বালানী সাশ্রয় হয়না, পক্ষান্তরে ৪০ভাগ বলছে সাশ্রয়ী হয়। তবে এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা যদি সঠিক ভাবে না হয় তবে জ্বালানী সাশ্রয়ী হবেনা। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছি। যারা নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে কাজ করছে তাদের সবার সমন্বয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমাদের এমন একটা পলিসি নির্ধারন করতে হবে যেটা গ্রাহকদের জন্য, ব্যবসায়ীদের জন্য এবং সরকারের জন্য গ্রহণযোগ্য। যদি এ ধরনের পলিসি গ্রহণ করা যায় তবে তা টেকসই হবে। আমরা একটা স্বপ্ন দেখছি এবং আমরা সেখানে পৌছাতে চাই। আমরা সোলার সিস্টেমকে গরীব মানুষের কাছে এমন ভাবে নিয়ে যেতে চাচ্ছি যে তারা যাতে এটিকে বোঝা না মনে করে। তবে এটি ঠিক এটি একবারের ৭ টাকায় নিয়ে আসা সম্ভব না। তবে কিভাবে সহজ কিস্তিতে সোলার তাদের হাতে পৌছানো যায় তাই আমরা চেষ্টা করছি।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, সরকার যে সকল বিষয়ে প্রসংসার দাবি রাখেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদ্যুৎ এর মূল্য শ্রেণীভেদে আলাদা করা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি জলবায়ু সম্মেলনে জার্মানীর একজন বিজ্ঞানী বলেছেন, আমরা যদি ইকো সিস্টেম রক্ষা করতে না পারি তবে কেউ বাঁচবোনা- সে ধনী দরিদ্র যাই হোক। আমরা যে জ্বালানী বৈষম্য তৈরি করেছি তার উপর আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। আমাদের দেশের ধনীদের জন্য যে জ্বালানি ভর্র্তূকি দেয়া হচ্ছে সেই একই ভর্তূকি পাচ্ছে গরীবরাও। এই ক্ষেত্রে তাই সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানীকে অধিকার হিসেবে রক্ষা করতে হবে। এই সেক্টরে কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। মন্ত্রী বলেছেন এই সেক্টরটি অজনপ্রিয় হতে চলেছে কারণ রাষ্ট্র এই সেক্টরের কারিগরি দক্ষতার দিকে দৃষ্টিপাত করেনি। সরকারের পলিসি লেভেলে যোগাযোগ এবং তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে বা নিবে অনেক বহুজাতিক কোম্পানী এবং দেশ। সোলারের ক্ষেত্রে বলতে চাই পার ইউনিট বিদ্যুৎ কত পয়সায় তৈরি হচ্ছে আমরা কি জানি। সে কথা কেন এই আলোচনায় নেই। ৮৫ টাকা করে পরে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ এর দাম ১০ টাকা। এতো বড় জ্বালানী বৈষম্য একটি স্বাধীন দেশে চলতে পারে। যে গরীব মানুষদের আমরা বিদ্যুৎ এর আওতায় আনতে চাচ্ছি তারা কিভাবে সোলার ব্যবহার করবে। কোন ধরনের প্যানেল আমদানি করলে মানুষ একটু সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাবে তাকি সরকার দেখছে? যারা এ সকল আনছে তারা চোখবুজে আনছে। ব্যাটারিগুলো ওয়ারেন্টি দিয়ে বিক্রি হলেও তা চলছেনা। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক বৈষম্য দেখতে পাই। যে এসি চালায় আপনি তাকে ১০ টাকা রেটে বিদ্যুৎ দিচ্ছেন, বসুন্ধরাকে দিচ্ছেন ৭ টাকা করে আর সোলার থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হবে ৮৫ টাকায় এই জ্বালানী বৈষম্য চলতে পারেনা।
অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, কোন একটি পণ্যের মূল্য যদি লাভের থেকে কম হয় তবে ভোক্তারা সেই পন্যটি কিনতে বেশি আগ্রহী হবে। এটার জন্য কোন আলাদা বিজ্ঞাপনের বা জোর করার দরকার নাই। কারণ আমি যা কিনছি তার মূল্য থেকে আমি বেশি লাভবান হচ্ছি। তাই আমাদের প্রথম খুঁজে বের করতে হবে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমগুলো কি এবং এর দামের পার্থক্যগুলো কত। এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সেটা গ্যাস দিয়ে তৈরি হোক, সোলার দিয়ে তৈরি হোক, বায়োগ্যাস দিয়ে তৈরি হোক, কয়লা দিয়ে তৈরি হোক তার লাভ কিন্তু একই। তাই এক্ষেত্রে মূল্যের তারতম্য থাকবে। আর যেকোন ব্যক্তি সবচেয়ে কম মূল্যে তা নিতে চাইবে এবং বেশি মূল্যে কিনতে চাইবে না। এটাই হলো অর্থনীতির মূল সূত্র। সেই সূত্র ধরে যদি আমরা দেখি তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ এর সবচেয়ে কম মূল্যের যোগান হয় গ্যাস মাধ্যম তৈরি বিদ্যুৎ। তার পর কয়লা, ডিজেল-পেট্রোল ইত্যাদি। এর পর বায়োগ্যাস, সোলারের দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল্য কত তা পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব হওয়া দরকার। এটা আমার প্রথম একটা পরামর্শ। যারা নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে কাজ করছেন তাদের প্রথম কাজ হলো এই মাধ্যমগুলো দিয়ে তৈরি বিদ্যুৎ এর প্রতি ইউনিটের মূল্যের একটি টেবিল করা । যাতে করে একবার তাকালেই এর মূল্য সম্পর্কে জানা যায়। জীবাস্ম জ্বালানীর মধ্যে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী হলো গ্যাস। আমাদের পরিবেশ মূল্য সংযুক্ত করে মোট মূল্য নির্ধারণ করতে হবে । এবং দেখতে হবে কোনটায় মূল্য কম আর কোনটায় বেশি। এক্ষেত্রে যদি স্বাভাবিক মূল্য ধরি তবে গ্যাস থেকে উৎপাদিত মূল্যের সাথে কেউ প্রতিযোগিতায় আসবেনা। আর যদি পরিবেশ মূল্য ধরা হয় তবে সোলার এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় আসতে পারে। মশবুল এলাহী নামে এক বিজ্ঞানী আবিস্কার করেছেন ২/৩ মিলিয়ন টাকা ব্যবহার করলে আমাদের যে গ্যাস কূপগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সেগুলোর মেয়াদকাল শেষ হবার পরও আমরা সেখান থেকে আরো বিপুল পরিমান গ্যাস পেতে পারি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানীর প্রশ্নে সরকার আন্তরিক এবং গুরুত্ব দিচ্ছে। এর প্রমান মেলে তার সেডা নামের নবাবযোগ্য জ্বালানী ইনস্টিটিউট করার মাধ্যমে। সরকার টার্গেট করেছে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ৫ ভাগ এবং পরবর্তী ৫ বছরে তার ১০ ভাগে উত্তীর্ণ করবে । এক্ষেত্রে সরকারকে টার্গেট এবং বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে আমার মনে হয় টার্গেটটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। আর তা না হলে তা হবে কেবল লোক দেখানো মাত্র। সেডার জন্য কিছু পরামর্শ হলো । বায়ুতো উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সম্ভব না । তাই উপকূলীয় অঞ্চল ধরে একটি বায়ু প্ল্যান করতে হবে। যদি পানির কথা চিন্তা করি তাহলে কর্ণফুলী আছে আর কোথায় পানি আছে তা খুঁজে দেখতে হবে। অনেকে বলে সিলেটে যে ফ্ল্যাস ফ্লাড হয় সেটাকে ধরে কিছু করা যেতে পারে। বায়ু এবং পানি আমাদের অঞ্চলিক ফোকাস রাখতে হবে। সোলারের ক্ষেত্রে দুই ধরনের কৌশল হতে পারে: ১. বাণিজ্যিক কৌশল ২. সামাজিক কৌশল । বাণিজ্যিক কৌশল: ১.প্রাইভেট হতে পারে ২. পাবলিক হতে পারে। প্রাইভেটে সমস্যা হলো প্রাথমিক যে নির্ধারিত মূল্য তা দিতে পারে বড়লোকরা, তা গরীবরা দিতে পারেনা। দরকার হলো যেসকল অঞ্চলের জন্য গভীর জঙ্গলে ,প্রত্যন্ত চরে, দ্বীপে ঔ জায়গা গুলোতে টার্গেট করা উচিত। এই জায়গায় অধিকাংশ মানুষই গরীব তাই তাদের প্রাথমিক নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব না। এই কথা ঠিক সোলারের মূল্য প্রাথমিকভাবেই হয় কিন্তু পরে তো আর সেই অনুপাতে মূল্য নাই। সুতরাং যদি তা দীর্ঘকাল ধরে চলে তবে তার মূল্য উঠে আসে। আবার সামাজিকভাবে যদি চিন্তা করি গরীবের ক্ষমতা আছে কিনা সেটা চিন্তা না করে। সামাজিকভাবে আমি সে সকল অঞ্চলে সোলার দিতে পারি যে সকল অঞ্চলে আমি বিদ্যুৎ এর তার নিতে পারবোনা তাহলে কিন্তু সেটা অর্থনীতির ভাষার মূল্য সাশ্রয়ী। এরমধ্যে শুনা যাচ্ছে নানা ধরনের ভেজাল সোলার প্যানেল ঢুকে গেছে। এক্ষেত্রে সেডার একটি অন্যতম কাজ মান নিয়ন্ত্রণের জায়গায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা। এই মাননিয়ন্ত্রণের দ্বারা এটার দীর্ঘস্থায়িত্বতা নির্ধারিত হবে এবং দীর্ঘস্থায়িত্বতা দ্বারা জনগণের লাভ নির্ধারিত হবে।
এছাড়া আমরা যে সকল অঞ্চলে এটা করতে চাচ্ছি তা দরিদ্র অঞ্চল তাই সেখানে একটি পরিবেশ লোন দেয়া যায়। যার মাধ্যমে গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কিস্তির মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে পারে। এবং টিভি, রেডিও সহ সকল মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের দ্বারা তা জনপ্রিয় করা যায়। এক্ষেত্রে সোলার ক্রয়ে একটি বিশেষ তহবিল এবং সহজ ব্যাংক লোন একটি ইস্যু হতে পারে সেডার জন্য। সোলার হোম সিস্টেম এর ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, সামাজিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য এই সোলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এবং তার জন্য একটি আঞ্চলিক কৌশল নেয়া যেতে পারে। আমরা যেহেতু দরিদ্র অঞ্চলকে টার্গেট করতে চাই তাই সেখানে একটি বাজেট থাকতে হবে এবং সুদহীন একটি লোনের ব্যবস্থা করতে হবে সোলারের জন্য যাতে করে তারা স্বাভাবিকভাবে এটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত বোধ করে।
রিপোর্ট প্রস্তুতকারী : ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, কর্মসূচী কর্মকর্তা, বারসিক, ঢাকা।
সংযুক্তি: ০২ ( দলীয় আলোচনায় এভাবেই
সংযুক্তিঃ ০৩ ( গবেষিত অঞ্চলে যে সব প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে তাদের নাম)
উপজেলা ও জেলা প্রতিষ্ঠানের নাম
নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ গ্রামীণ পাওয়ার, বন্ধুচুলা (বিক্রয়কেন্দ্র), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বার্ক, ইউ পিপিআর,ইউ ডিপিএস, সবুজ উন্নয়ন গ্রাম, গ্রামীণ শক্তি, গ্রীণ হাউজিং এন্ড এনার্জি লিমিটেড, আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বেঙ্গল সোলার, পপুলার, পাঁতাকুড়ি, শক্তি সৌর আলো, সিএম ই এস
টেকনাফ,কক্য্রবাজার গ্রামীণ শক্তি, আলমাস, আইডিএফ,রুলার সার্ভিস ফাউন্ডেশন।
গোয়াইনঘাট, সিলেট গ্রামীণ শক্তি, টি এম এস এস, ব্রাইড গ্রীণ এনার্জি ফাউন্ডেশন, আভা, পাতাকুড়ি, আর এফ এল।
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম রহিম আফরোজ, বন্ধু চুলা বিক্রয় ও সেবা কেন্দ্র, এম এন সোলার পাওয়ার, আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ব্রাইট স্টার এনার্জি ফাউন্ডেশন, সানহোম এনার্জি লি
মুজিবনগর, মেহেরপুর গ্রামীণ শক্তি, আত্মবিশ্বাস , সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড পিস্ (সিডিপি), সুশান্তা সেচ্ছাসেবী সংগঠন, মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক), দোয়েল সংস্থা
ফুলছড়ি, গাইবান্ধা নুসরা, ব্রাইট গ্রীন এনার্জি ফাউন্ডেশন, আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ইনজেন টেকনোলজী লিমিটেড, সুবসতি, গ্রামীন শক্তি, শক্তি সৌর আলো, রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন, গ্রীন হাউজিং এন্ড এনার্জি লিমিটেড, সোসাল ডেভেলপমেন্ট রুরাল সোসাইটি, সৃজনী বাংলাদেশ, সোলারেন ফাউন্ডেশন, সমাজ কল্যাণসংস্থা
হাতিয়া, নোয়াখালী গ্রামীণ শক্তি,আর এস এফ, গ্রীণ হাউজিং এন্ড এনার্জি লিমিটেড, সৃজনী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সৌর শক্তি,হিলফুল ফুজুল,নুসরাত, উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন মহিলা উন্নয়ন সমিতি, টিএমএস এস, এইচ এম সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানী লিমিটেড, ব্রাইট গ্রীনএনার্জি ফাউন্ডেশন, সোলারিক, সাইমন ইলেকট্রনিক্্র স্কাই সোলার
কলমাকান্দা, নেত্রকেকোণা আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, সৃজনী বাংলাদেশ, পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থা, গ্রামীন শক্তি
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ গ্রামীন শক্তি,রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন
হরিপুর,ঠাকুরগাঁও গ্রামীন শক্তি,আরএসএফ, ব্রাক, এওত
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা গ্রামীন শক্তি, ব্র্যাক ফাউন্ডেশন,সৃজনী বাংলাদেশ, টিএম এস এস ,উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন, রুরাল সার্ভিস ফাউন্ডেশন, এডিএএমএস, রিসডা বাংলাদেশ, সোলারেন ফাউন্ডেশন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন,পান্না পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, এম এ কে এস
হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ গ্রামীণ শক্তি, টিএমএসএস, রিমসো ফাউন্ডেশন, সোলারেন ফাউন্ডেশন , সৃজনী বাংলাদেশ,
রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, পান্না রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সাউদার্ন রিন্যুয়েবল এনার্জি লিমিটেড , ব্র্যাক, আভা, সৌর শক্তি, আশা , নুসরা, এইচ বি, জিআই জেড
তথ্যসূত্র:
ক্স উন্নত চুলা, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল ২০০৩।
ক্স উন্নত চুলা, উন্নত চুলা সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প, জ্বালানি গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিসিএসআইআর, ঢাকা।
ক্স দেশ পরিবেশ ও প্রযুক্তি, তৃতীয় ভাগ,পৃষ্ঠা:২৪,বিজ্ঞান গণশিক্ষা কেন্দ্র।
ক্স বিজ্ঞান ভিত্তিক উন্নত চুলা তৈরী করি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেস প্রোগ্রাম, আইটিডিজি-বাংলাদেশ।
ক্স চড়ড়ৎ ঢ়বড়ঢ়ষব’ং বহবৎমু ড়ঁঃষড়ড়শ ২০১০, চৎধপঃরপধষ অপঃরড়হ, জঁমনু, টক.
ক্স িি.িংড়হধৎনধহমষধফবংয.পড়স/
ক্স িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/নষড়ম/নধহমষধফব
ক্স িি.িফধরষুলধহধশধহঃযধ.পড়স/
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন