মালাটিয়া-সেবাস্তিয়া যার ডাকনাম বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশ নামের একটি জেলার কথা জানাবো আজকে।এটি ককেশাস অঞ্চলের একটি অংশ যার পশ্চিমে তুরস্ক, উত্তরে জর্জিয়া, দক্ষিণে লাচিন করিডোর।পশ্চিম এশিয়ার আর্মেনিয়ান পার্বত্য অঞ্চলের স্থলবেষ্টিত দেশ আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্রের জেলা মালাতিয়া-সেবাস্তিয়া যার ডাকনাম বাংলাদেশ

মালাটিয়া-সেবাস্তিয়া উত্তরে অজাপন্যাক জেলা, পূর্বে কেন্ট্রন জেলা এবং দক্ষিণে শেঙ্গাভিট জেলা দ্বারা বেষ্টিত।পূর্ব দিক থেকে আরমাভির প্রদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আরারাত প্রদেশের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত।

জেলাটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ছোট ছোট পাড়ায় বিভক্ত করা হয়েছে যেমন: নর মালাটিয়া  জোরাভার আন্দ্রানিক, শাহুমিয়ান, আরারাত্যান এবং হাঘতানাক।

১৯২৫ সালে ঐতিহাসিক শহর মালাটিয়া থেকে পশ্চিম আর্মেনিয়ান গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ইয়েরেভান শহরের পশ্চিমে মালাটিয়ায়  নতুন বসতি স্থাপন করে। দুই বছর পরে একই কারণে সেবাস্তিয়ার গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা মালাটিয়ার উত্তরে বসতি স্থাপন করে। ১৯৪০-এর দশকে, ইয়েরেভান শহরের বিস্তৃতির সাথে, মালাটিয়া এবং সেবাস্তিয়া এবং আশেপাশের জনবসতিগুলি রাজধানী শহরের অংশ হয়ে ওঠে।১৯৯৬ সালে, মালাটিয়া এবং সেবাস্তিয়াকে মালাটিয়া-সেবাস্তিয়া নামে ইয়েরেভানের ১২টি জেলার একটিতে ঘোষণা করা হয়।

"কেন বাংলাদেশ বলা হয়?" মালাটিয়া-সেবাস্তিয়া জেলাকে 

ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে আর্মেনীয়দের সম্পর্ক বহু যুগের। প্রথম আর্মেনিয়ান ভাষার সংবাদপত্র, আজদারার, ১৭৯৪ সালে চেন্নাই থেকে মুদ্রিত হয়েছিল।বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় আর্মেনিয়ান চার্চ, ঢাকার আরমানিটোলা, এখনো তাদের সম্প্রদায়কে স্মরণ করে। 

লোকমুখে প্রচলিত ভাষ্য মতে " এই জেলাটি আর্মেনিয়ার সবচেয়ে গরম প্রবন এলাক।সবচেয়ে দরিদ্র, অনেক দূরে, এবং কেউ এটি সম্পর্কে অনেক কিছু জানে না।" দুঃখজনকভাবে আর্মেনিয়ানরা খুবই নিন্দনীয়ভাবে এই জেলার ডাকনামটি তাই বাংলাদেশ প্রদান করেন. 

যদিও নৃ-বিজ্ঞানী লিলিত মিরজোয়ান, ইয়েরেভানের অনানুষ্ঠানিক শীর্ষপদগুলির উপর একটি ছোট নিবন্ধে, আরেকটি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

"বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে একটি ভয়ঙ্কর সামরিক অভিযানের পর 1971 সালে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে তখন এই জেলাটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ।মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশগুলির মধ্যে একটি পাকিস্তান যা আর্মেনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় নি।ঠিক ওই সময় গুলোতে আরও বেশি করে লোকমুখে এই জেলার ডাকনাম বাংলাদেশ পরিচিতি পেতে থাকে বেশি কর।মির্জোয়ান আরও উল্লেখ করেছেন যে হিন্দকাস্তান (ভারত) নামে পরিচিত একটি জেলাও ছিল আর্মেনিয়াতে কারণ হায়রেনিক সিনেমা প্রায়ই 1970-এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলি দেখাত

আরেকটি প্রচলিত ভাষ্য রয়েছে
সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় অনানুষ্ঠানিক নামগুলি গড়ে উঠেছিল, ওই সময় কিছু বাংলাদেশী ছাত্র ইয়েরেভানে অধ্যয়ন করতেন যাদের মধ্যে অনেকেই মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন। প্রায় প্রতি শুক্রবার রাতে এই জেলার পানশালায় স্ট্রিটগুলোতে সবাই একত্রিত হতে। কালক্রমে তাদের মুখে মুখে প্রচলিত হয় এই জেলার ডাকনাম বাংলাদেশ
 

বাংলাদেশ জেলাটি বিদেশীদের কাছে এমন কোনো আগ্রহের জেলা নয়, জেলাটি সেবাস্তিয়া সিল্ক ফ্যাক্টরি, মেটাল ফ্যাক্টরির ছাড়া বেশিরভাগ আবাসিক এলাকা এবং দুটি বড় মার্কেট ছাড়া তেমন কিছু নেই দেখার মতো।Zvartnots আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমের বেশ কাছেই অবস্থিত।এরপরেও বাংলাদেশ জেলাটির পর্যটক আকর্ষণ করে এমন কিছু জায়গার তালিকা এখানে দেওয়া হলো 

  1. মালাটিয়ার ঈশ্বরের পবিত্র মায়ের চার্চ।
  2. চার্চ অফ হোলি হলি মাদার (গড অফ মালাটিয়া) .
  3. হলি ট্রিনিটি চার্চ
  4. হলি ক্রস রাশিয়ান অর্থডক্স চার্চ
  5. প্যাট্রিওটিসি ওয়ার মেমোরিয়াল পার্ক
  6. ইয়ুথ পার্ক
  7. মালাটিয়ান গার্ডেন
  8. মেটার্নিটি পার্ক
  9. লাভ & ফেইথ পার্ক 
  10. চিনার গার্ডেন
  11. ইতালিয়ান পার্ক
  12. আর্মেনিকুম সেন্টার
  13. ডালমা গার্ডেন মল

মন্তব্যসমূহ