বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন


বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক অভিশাপ । এর ফলে সম্ভাবনাময় কিশোর কিশোরীদের বেড়ে উঠা ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বিয়ে মানুষের জীবনে একটি আনন্দময় ঘটনা, সেই সঙ্গে পরিবার ও শুভানওধ্যায়ীদের জন্য একটি উৎসবের উপলক্ষ্য হলেও বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ঘটনাটি বেদনা ও তিক্ততার । কেননা বাল্য বিবাহ কোনো জীবনের শুভ সূচনা করে না, বরং একটি সর্বনাশা পরিণতি ডেকে আনে । অবুঝ মেয়ে শিশু বা অসহায় কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেক সময় জোড় করেই বাল্য বিবাহ দেয়া হয়। এ কারণে বাল্যবিবাহ মানে শিশু, বিশেষ করে ময়ে শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের ফলে ছেলে বা মেয়ের সুন্দর শৈশবের সমপাপ্তি ঘটে এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বিকাশের অধিকার ও সুয়োগ খর্ব হয়। আইসিডিডিআরবি’র মতে , মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলে সমাজেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়; বিশেষ করে জনসংখ্যা বুদ্ধি, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর অনাথ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অচেতনতা,প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার, যৌতুকের অভিশাপ, সামাজিক অস্থিরতা, মেয়ে শিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব, নিরাপত্তার অভাব উত্যাদি কারণে আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেই চলেছে। 

জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি-২০১১ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বে বাল্য-বিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় উল্লেখ কারা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশে তিনজন কিশোরীর মধ্যে দুজনেরই বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের নিচে । আবার ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের বিয়ে হয়ে যায় ১৫ বছর পূর্ণ হবার আগেই । কিশোরীদের প্রতি ৩ জনে একজন অল্প বয়সেই সন্তানের মা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এসব কিশোর-কিশোরীরা ৩৫ ভাগই অপুষ্ঠির শিকার। তাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম, যদিও তারা উচ্চতায় তাদের মায়েদের সমান। ইউনিসেফের গত বছরের প্রকাশিত’ প্রোগ্রেস ফর চিল্ড্রেন এচিভিং দি এমডিজিস উইথ ইকুইটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছর বযসের আগে ৬৬ শতাংশ মেয়ে এবং একই বয়সের ৫ শতাংশ ছেলের বিয়ে হচ্ছে। অর্থাৎ বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে এবং কূফল বেশী ভোগ করছে মেয়েরা। সেভ দ্যা চিলড্রেনের’ বিশ্বে মায়েদের অবস্থা ২০১০’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী , বাংলঅদেশের গ্রামাঞ্চলে ৬৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিবাহের বয়সসীমা হচ্ছে ছেলের ২১ ও মেয়ের ১৮ বছর। অথচ বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক আ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০০৭ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীর বিয়ের গড় বয়স ১৫ বছর ৩ মাস । বাস্তবে আমাদের দেশে কোনো কোনো শিশুর এতো অল্প বয়সে বিয়ে হয় যখন তাদের কাছে বিয়ের অর্থই পরিষ্কার থাকে না।। শারীরিক ও মানসিক পূর্ণতাপ্রাপ্তির আগেই বাল্যবিবাহের শিকার হয় বিশেষ করে মেয়েরা। বাল্যবিবাহের খেসারত ছেলেমেয়ে উভয়কে দিতে হলেও মেয়েদের জীবনে এর কূফলের পরিধি ও মত্রিা ভয়াবহ এবং ব্যাপক। ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মেয়েদের বাল্যবিবাহের কারণে বছরে ২ লাক্ষ শিশুর জন্ম হয় স্বল্প ওজন ও মারাত্মক অপুষ্ঠি নিয়ে, মায়েরও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এসব অপরিণতবয়স্ক ও অজ্ঞ মায়েরা নিজের ও শিশুর ঠিকমত যন্ত নিতে পারে না বলে তাদের যথাযথ বিকাশ ব্যাহত হয়। বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, মেয়ে শিশুদের ব্যাক্তিগত বিকাশ বা উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে ফেলে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিাহের কবলে পড়া মেয়েকে পারিবারিক নির্যাতনের দুর্ভোগও পোহাতে হয় অনেক বেশী।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচলিত আইনকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে, এতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সংযোজন করে এর কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে । বিয়ের সময় জন্মনিবন্ধন সনদের ব্যববহার এবং সঠিক বয়স নিরুপণে কাজীদের সহযোগীতা একান্ত আবশ্যক। সম্প্রতি বাল্যবিবাহ এবং নিকাহ নিবন্ধনকারীদের হয়রানি রোধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা সংশোধন করে বর-কনের বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ কিংবা অভিবাবকের হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল ২০১১ তারিখে আইন , বিচার, ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের জারিকৃত সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নিকাহ নিবন্ধনকারী বা রেজিস্ট্রার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে নিকাহ নিবন্ধন করেছেন এরকম অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিকাহ নিবন্ধনকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যকস্থা নেওয়া হবে। 

তবে শুধু আইনের ভয় দেখীয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে বাল্যবিবাহ এখনও প্রবলভাবে সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত। এইট প্রতিরোধে তাই আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অভিভাবকদের সচেতন করে তোলা এবং পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা । আর এ কাজটি তৃনমূল পর্যায় থেকেই শুরু করতে হবে। 

বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শারীরিক ও মানসিক ভাবে বেড়ে ওঠার আগেই আমাদের দেশে বেশীরভাগ মেয়েশিশুদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। বাল্যবিবাহের ফলে একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। 

বাল্যবিবাহ সর্ম্পকে বিস্তারিত
ক্স বাল্যবিবাহ কি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
ক্স আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তি
ক্স বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক
ক্স বাল্যবিবাহ রোধে আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন
ক্স স্থানীয়ভাবে আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন
ক্স নির্যাতিত নারীদের জন্য জরুরী চিকিৎসা ও সেবা
ক্স বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে
ক্স তথ্যসূত্র
ক্স সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাল্যবিবাহ কি?
সাধারণভাবে, বিয়ের সময় কোন পাত্রের বয়স যদি ২১ বছরের নিচে এবং কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হয় তখন তাকে বাল্যবিবাহ বলা হয়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সাথে ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকেই বাল্যবিবাহ বলা হয়। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বাল্যবিবাহ বলতে বোঝায়, বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিয়ে। এছাড়া বর-কনে দুজনেরই বা একজনের বয়স বিয়ের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের কম হলে অর্থাৎ বিয়েতে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নীচে অথবা ছেলের বয়স ২১ বছরের নীচে থাকলে সেটাও আইনের চোখে বাল্যবিবাহ বলে চিহ্নিত হবে। 

বাল্যবিবাহ কি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
১৯২৯ সালের (সংশোধিত) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী-
ক্স বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
ক্স পিতা-মাতা সহ এই বিয়ের সাথে যুক্ত সকলেই শাস্তি পাবেন
ক্স তবে বিয়ে বাতিল হবে না 

আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তি

শিশু বিবাহকারীর শাস্তি
১৯২৯ সালের (সংশোধিত) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন,ধারা -৪ অনুযায়ী
ক্স ২১ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের কোন পুরুষ যদি ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়েকে বিয়ে করে তাহলে ঐ পুরুষের ১মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে।
ক্স এই আইনে কোন নারীকে কারাদন্ড দেয়া যাবেনা তবে জরিমানা করা যাবে। 
ক্স তবে নাবালক ছেলে মেয়েকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

বিয়ে সম্পন্নকারীর শাস্তি
১৯২৯ সালের (সংশোধিত) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা-৫, অনুুযায়ী-
ক্স কোনো ব্যক্তি বিয়ের আইনগত বা বৈধ বয়সের কম বর বা কনের বিয়ে সম্পন্ন বা পরিচালনা করলে কিংবা অনুষ্ঠানের নির্দেশ প্রদান করলে তার ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা তিনি উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।


অভিভাবকের শাস্তি
১৯২৯ সালের ( সংশোধিত) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা -৬ অনুযায়ী, 
ক্স কোন অভিভাবক (এমনকি তারা যদি মা-বাবা হন) যদি বাল্যবিবাহের নির্দেশ দেন বা বিয়ে বন্ধ করা বিষয়ে গাফিলতি প্রদর্শণ করে  তবে ঐ ব্যক্তি ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। 
ক্স তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাল্যবিবাহের কারণে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা শাস্তি পেলেও বিয়েটি বৈধ থাকে। অর্থাৎ বিয়েটি বাতিল হয় না। 

অনাদায়ে কারাদন্ড হবে না
১৯২৯ সালের (সংশোধিত) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ধারা -৭ অনুযায়ী, জেনারেল ক্লজেজ অধ্যাদেশ ১৮৯৭-এর ২৫ ধারা বা দন্ডবিধির ৬৪ ধারায় যা-ই বলা থাকুক না কেন, ৩ ধারার অধীনে অপরাধীকে শাস্তিদানকারী আদালত অর্থদন্ড আদায়ে অপরাগতার দরুন কারাদন্ডের আদেশ দিতে পারেন না 

বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক
বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক বা কুফল ভয়াবহ। বাল্যবিবাহের বেশ কিছু ক্ষতিকারক দিক হলো :
ড় বাল্যবিবাহের দরুন মা ও সন্তান উভয়ের মৃত্যুহার বেশী।
ড় কিশোরী গর্ভবতী মায়ের প্রসবজনিত ঝুঁকি বা রক্তে বিষক্রিয়া, গর্ভপাত, রক্তক্ষরন, বাঁধাগ্রস্থ প্রসব, সংক্রমন ও ক্ষত।
ড় শিশুর স্বল্প ওজন হয় ও অপুষ্টিতে ভুগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
ড় নারীরা অধিক মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয় এবং মানসিকভাবে অস্স্থ্যু হয়ে পড়ে।
ড় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।
ড় অধিকার সর্ম্পকে সচেতন নয়।
ড় অর্থনৈতিকভাবে নারীরা স্থিতিশীল হতে পারে না।

বাল্যবিবাহ রোধে আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন
ঠিকানা ঠিকানা
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,কেন্দ্রিয় কার্যালয় সুফিয়া কামাল ভবন,১০/বি/১ সেগুনবাগিচা,ঢাকা-১০০০,  ফোন -৭১৬৯৭০১, ফ্যাক্স ৮৮-০২-৯৫৬৩৫২৯, ই-মেইল-সধযরষধ@নফ.পড়স
ওয়েব-িি.িসধযরষধঢ়ধৎরংযধফ.ড়ৎম মহিলা আইনজীবী সমিতি,৪৮/৩, মনিকো মিনা টাওয়ার,পশ্চিম আঁগারগাঁও, ঢাকা, ফোন-৯১৪৩২৯৩
ই-মেইল-নহষিধ.ড়ৎম.নফ
আইন ও শালিস কেন্দ্র, ৭/১৭, ব্লক-ই, লালমাটিয়া ঢাকা, ফোন-৮৩১৫৮৫১, ৮১২৬১৩৪, ৮১২৬১৩৭         
৮১২৬০৪৭, ই-মেইল-ধংশ@বরঃবপযপড়.হবঃ
ব্লাস্ট, ১/১ পায়নিয়ার রোড/ ওয়াইএমসিএ,কাকরাইল, ঢাকা, ফোন৮১৭১৮৫,৯৩৪৯১২৬

স্থানীয়ভাবে আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন
ক্স ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/মহিলা ও পুরুষ সদস্য
ক্স পৌরসভার চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার
ক্স নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
ক্স উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
ক্স উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
ক্স জেলা প্রশাসক
ক্স জেলা জজের নেতৃত্বে আর্থিকভাবে অসহায়দের সেবাদান কর্তৃপক্ষ
ক্স নিকটস্থ এনজিও/বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যারা এ বিষয়ে কাজ করছেন 
ক্স মানবাধিকার সংগঠন সমূহ।
ক্স মহিলা মন্ত্রনালয়ের আওতায় মহিলা অধিদপ্তরের আইন সহায়তা সেল

নির্যাতিত নারীদের জন্য জরুরী চিকিৎসা ও সেবা ( যেসব প্রতিষ্ঠানে জরুরী সেবা পাওয়া যাবে)
ক্স ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
ক্স উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ক্স মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
ক্স জেলা হাসপাতাল
ক্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
ক্স ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (বিভাগীয় পর্যায়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবস্থিত)
ক্স বিভিন্ন বেসরকারী সেবা কেন্দ্র

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে
ক্স পৌরসভা,মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা সরকারী  কোন কর্তৃপক্ষ ঐ এলাকার ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারবেন। 
ক্স এছাড়া সামাজিকভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার বিশেষ করে নির্বাচিত নারী মেম্বাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এছাড়া যে কোন সচেতন নাগরিক বাল্যবিবাহরোধে উদ্যেগ নিতে পারেন।
ক্স বাল্যবিবাহ রোধে জন্মনিবন্ধনের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেক শিশুর জন্ম নিবন্ধন হলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমে যাবে।
ক্স বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ক্স সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন করা।
ক্স নারী ও শিশু কল্যাণ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটি বাল্যবিবাহ নিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ক্স বাল্যবিবাহ নিরোধে কাজী ও ইমামদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ক্স গ্রাম সরকারের সদস্যদের বাল্যবিবাহ নিরোধে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ক্স ইমাম প্রশিক্ষণে বাল্যবিবাহ নিরোধের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। যাতে করে এ কর্মসূচী সফল করতে ইমামরা ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্স ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠন বাল্যবিবাহ নিরোধে সচেতনতা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে। 
তথ্যসূত্র

১. স্টেপস্ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, এর ২০১২ সালে প্রকাশিত ডায়েরি
২. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন,১৯২৯।
৩. লাহিড়ী, চন্দন কুমার ,জন্মনিবন্ধন   বাল্যবিবাহ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, রচনা ও গ্রন্থনা: সম্পাদনা: রহমান,শাহীন , প্রকাশনায়:জেন্ডার আ্যন্ড ডেভলেপমেন্ট কমিউনিকেশন সেন্টার, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভলপমেন্ট।
৪. পন্ডিত সুবর্ণা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নারীর মানবাধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, উন্নয়ন পদক্ষেপ, ত্রয়োদশ বর্ষ, ২য় সংখ্যা, মার্চ ২০০৭।
৫. প্রজনন স্বাস্থ্য,নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জেন্ডার সহায়িকা, পৃষ্ঠা নং-২২,২৩,প্রথম সংস্করণ: মে-২০০৭,প্রকাশক:আইইএম ইউনিট, পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়,আর্থিক সহযোগিতায়:জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (টঘঋচঅ)।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ১. বাল্যবিবাহ কি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?

উত্তর:হ্যাঁ,বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রশ্ন: ২.বাল্যবিবাহের শাস্তি কি?

উত্তর:১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় প্রকারে দন্ড।

প্রশ্ন: ৩.বাল্যবিবাহের ক্ষতিকারক দিক গুলো কি কি?

উত্তর:
ড় বাল্যবিবাহের দরুন মা ও সন্তান উভয়ের মৃত্যুহার বেশী
ড় শিশুর স্বল্প ওজন হয় ও অপুষ্টিতে ভুগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
ড় নারীরা অধিক মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হয় এবং মানসিকভাবে অস্স্থ্যু হয়ে পড়ে।
ড় অর্থনৈতিকভাবে নারীরা স্থিতিশীল হতে পারে না।

প্রশ্ন:৪.বাল্যবিবাহের বিয়ে কি বৈধ?

উত্তর: বাল্যবিবাহের বিয়ে বৈধ।

প্রশ্ন:৫.বাল্যবিবাহের জন্য কে কে শাস্তি পাবেন?

উত্তর:শিশু বিবাহকারী পুরুষ, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনকারী কাজী, অভিভাবক।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন

রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে তালিকাভূক্তি। আইনের দ্বারা নির্ধারিত তথ্যাবলী দিয়ে সরকারিভাবে বিবাহ তালিকাভূক্তি করাই হচ্ছে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন। বিবাহ সম্পর্কিত কোন জটিলতা বা প্রমাণের প্রশ্ন উঠলে এই রেজিস্ট্রেশনই প্রমাণ পত্র হিসেবে কাজ করে। ১৯৪৭ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা আবশ্যক। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কোন বিধান নাই। যেহেতু বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা হিন্দু পারিবারিক আইন মতে পরিচালিত হয় ফলে বৌদ্ধদের বিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা হয় না। তবে প্রয়োজনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করা যায়। ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। খ্রিস্টান বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন বিয়ের একটি অংশ হওয়ায় প্রায় সকল বিয়েরই রেজিস্ট্রেশন হয়ে থোকে।

বিস্তারিত
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশন
খ্রিস্টান আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশন
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব
কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের খরচ বা ফি
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের  সুফল ও কুফল
তথ্যসূত্র
সচরাচর জিজ্ঞাসা

মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশন
মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে প্রমাণ করা কঠিন ফলে মেয়েরা প্রতারিত হতে পারে। সকল বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা আবশ্যক। দেনমোহর,ভরণপোষণ,উত্তরাধিকার নির্ণয়,সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা একটি আইনগত দলিল। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ যদি বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে। 

খ্রিস্টান আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশন
১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিয়ে সম্পাদিত হয়। খ্রিস্টান বিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং একটি পবিত্র চুক্তি। খ্রিস্টান বিয়ে লিখিত মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এবং রেজিষ্ট্রি বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয়। খ্রিস্টান বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো হলো:
১.   বিয়ের পাত্র-পাত্রীর পূরো নাম ও ঠিকানা।
২.   পাত্র-পাত্রীর আবাসস্থল ও বাসস্থানের ঠিকানা।
৩. পাত্র-পাত্রী কতদিন ধরে ঐ এলাকায় বসবাস করছে তার প্রমাণ পত্র।
৪.   বিয়ে সম্পাদনের চার্চ বা অন্যকোন স্থান।

নোটিশ প্রাপ্তির পর চার্চের ধর্মযাজক নোটিশটি খোলা জায়গায় লাগিয়ে দেবেন। যাতে নোটিশটি সকলের নজরে আসে। এভাবে নোটিশ কয়েক সপ্তাহ ঝোলানো থাকবে যাতে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তিনি যেন আপত্তি করতে পারেন। যদি কোন আপত্তি না পান তাহলে চার্চ প্রধান বিয়ের পক্ষগনের নিকট থেকে একটি ঘোষণা গ্রহন করবেন। এই ঘোষণাটি বিয়ের পক্ষগন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে দিবেন যাতে থাকবে-
১) বিয়ের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে জানামতে এমন কোন ঘনিষ্ট আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক নেই যাতে তাদের বিয়েতে আইনসম্মত বাঁধা আছে।
২) বিবাহের পাত্র-পাত্রী দুজনেই আইন অনুযায়ী সাবালক।
এই ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার কমপক্ষে ৪ দিন পর চার্চের ধর্মযাজক বিয়ের আবেদনকারীকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। সার্টিফিকেট জারীর ২ মাসের মধ্যে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব পারিবারিক জীবনে অপরিসীম। রেজিস্ট্রেশন বিয়ের বর -কনে উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ নারীদের জন্য। রেজিস্ট্রেশন হলে একাধারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয় অনেকাংশে কারন কাবিননামায় বয়স উল্লেখ করতে হয় এবং তা প্রমাণ পত্র সহ। এছাড়া নারীর সুরক্ষায় বিয়ের নিকাহনামা বা কাবিরনামা একটি সত্যতা প্রমাণের দলিল। কাবিরনামা হলো মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে একটি চুক্তিপত্র বা দলিল। খ্রিস্টান বিয়ের ক্ষেত্রেও একই রকম। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারনে অনেক হিন্দু নারী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন
ক্স মুসলিম বিয়েতে সবচেয়ে উত্তম বিয়ের দিনই বিয়েটি রেজিস্ট্রি করানো। তাহলে বিয়ের অনুষ্ঠান সকলের উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রেশন করলে তার সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। যদি কোন কারনে বিয়ের অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশন সম্ভব না হয় তাহলে অবশ্যই ১৫ দিনের মধ্যে নিকটস্থ কাজী অফিসে বিবাহ রেজিস্ট্রি করাবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেক ক্ষেত্রে কাজী নিজে বিবাহ রেজিস্ট্রি না করে তার সহকারির মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া ঠিকমতন হয়েছে কিনা তা ভালভাবে দেখে নেয়া ভালো। একটি ইউনিয়নে ১ জন সরকারি বিয়ে রেজিষ্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। এই রেজিষ্টার জেলা রেজিষ্টার এবং জেলা রেজিষ্টার চূড়ান্তভাবে রেজিস্ট্রেশন মহাপরিচালকের অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। 
বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময় বিয়ের কাজীর কতকগুলি বিষয় সাবধানতার সাথে খেয়াল রাখতে হয়।  বিষয়গুলো হলো:
ড় বর ও কনের বিয়ের বয়স
ড় বর ও কনের বিয়েতে পূর্ণ সম্মতি আছে কিনা
ড় বিয়েরে প্রকৃত সাক্ষী

বিয়েরে উল্লেখিত শর্তসমূহ পূরণ হলেই কেবলমাত্র কাজী (নিকাহ রেজিষ্টার) বিয়ে রেজিস্ট্রি করবেন।
ক্স খ্রিস্টান বিয়ের ক্ষেত্রে যিনি বিয়ে সম্পাদন করবেন তিনিই বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন। রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক,চার্চ অব ইংল্যান্ড অথবা চার্চ অব স্কটল্যান্ড এর কোন যাজক, নির্বাচিত কোন বিশপ,খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট ১৮৭২ এর আওতায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোন মিনিষ্টার অব রিলিজিয়ন অথবা উক্ত এ্যাক্টের আওতায় নিযুক্ত কোন বিবাহ রেজিষ্টার খ্রিস্টান বিবাহ সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের খরচ বা ফি
মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে একজন বিয়ে রেজিষ্টার দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে একটি বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ত্রিশ টাকা থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারেন। দেনমোহরে প্রথম এক হাজার টাকার জন্য ৩০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি হাজারের জন্য ২৫ টাকা কমিশন পাবেন এবং তিনি যদি বিবাহের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করান তাহলে যাতায়াত বাবদ প্রতি মাইলে ১ টাকা করে পাবেন। বিয়েতে বরপক্ষ রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করবেন। রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিলে নিকাহ রেজিষ্টার একটি প্রাপ্তি রশিদ প্রদান করবেন। এখানে উল্লেখ্য মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের পর নিকাহ রেজিষ্টার বাধ্যতামূলকভাবে বর ও কনেপক্ষকে বিয়ের কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন। খ্রিস্টান বিয়ের সত্যায়িত কপির জন্য যথাযথ ফি দিয়ে সত্যায়িত কপি নিতে হবে।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের  সুফল ও কুফল
একটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করলে তার অনেক সুফল পাওয়া যায়। সুফলগুলো হলো:
ক) বিয়ের পক্ষদ্বয় বিয়ে অস্বীকার করতে পারেনা এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি কিছু দায়-দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়।
খ)স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে বা স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে বা করার উদ্যেগ নিলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
গ)স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় করতে পারেন।
ঘ)স্বামী/স্ত্রী উভয়ে উভয়ের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার হতে পারেন।
ঙ) বিয়ের সময় দেনমোহর ধার্য্য না হলেও স্ত্রী ন্যায্য দেনমোহর আদায় করতে পারেন।
রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফল হিসেবে উপরে উল্লেখিত বিষয়ে স্বামী অথবা স্ত্রী কোন পদক্ষেপ গ্রহন বা দাবী আদায় করতে পারেন না। বিশেষ করে বিয়ের মিথ্যা কথা বলে নারীদের পাচার, শ্লীলতাহানী ইত্যাদিরূপে ব্যবহার করতে পারে কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হলে  এই ধরনের নারী নির্যাতন  বন্ধ হবে বা অনেক কমে যাবে।

তথ্যসূত্র
১. বাংলাদেশ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন,১৯৯৮,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক,ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর সহায়তায় প্রকাশিত।
২. পারিবারিক আইনে বাংলাদেশের নারী, আইন ও শালিস কেন্দ্র, প্রথম প্রকাশ: জুন-১৯৯৭।


সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন.১. রেজিস্ট্রেশন না করা কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ? শাস্তির পরিমাণ কি?
উত্তর. মুসলিম আইনে রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেজিস্ট্রেশন না করলে ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে তবে বিয়েটি বাতিল হবে না। খ্রিস্টান আইনে রেজিস্ট্রেশন বিয়ের অন্যতম অংশ ফলে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এছাড়া হিন্দু,বৌদ্ধদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হয় না।

প্রশ্ন.২, যদি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে রেজিস্ট্রি না হয় তাহলে কতদিনের মধ্যে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে হবে?
উত্তর.বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা উত্তম তবে কোন কারনে তা  না হলে ১৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

প্রশ্ন.৩.বিয়ের দেনমোহর এর পরিমাণের   উপর কি রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য্য হয়?
উত্তর. হ্যাঁ, বিয়ের দেনমোহরের পরিমাণের উপর রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য্য হয়। যার পরিমাণ প্রথম ১ হাজার ৩০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি হাজারে ২৫ টাকা তবে দেনমোহর যতই ধার্য্য হোক না কেন তা ৩,০০০ এর উপরে হবে না। এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বরপক্ষ পরিশোধ করবেন।

প্রশ্ন.৪.বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময় নিকাহ রেজিষ্টারের দায়িত্ব কি?
উত্তর.বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময় বিয়ের অবশ্যপালনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা তা নিকাহ রেজিষ্টার যাচাই-বাছাই করে দেখবেন যেমন:১.বিয়েতে বর -কনের বয়স ২১ ও ১৮ বছর হয়েছে কিনা (দালিলক প্রমাণসহ),২. উভয়ের সম্মতি আছে কিনা,৩.দেনমোহর ধার্য্য হয়েছে কিনা,৪.কারো কোন অধিকার খর্ব হয়েছে কিনা ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব নিকাহ রেজিষ্টারের।

বয়সন্ধিজনিত কারণে বাল্যবিবাহ প্রত্যাখান অধিকার

বাল্যবিবাহ একটি দন্ডনীয় অপরাধ। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী,বাল্যবিবাহের সাথে সম্পর্কিত সকলেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে ধরা হয়। কিন্তু বিবাহের ‘কনে’ এই আইনে অপরাধী নয়। বরং ‘কনে’ যদি সাবালিকা হওয়ার পর অথবা ১৮ বৎসরের মধ্যে বিয়েকে অস্বীকার করতে চায় তবে তার উপায় আছে।

বিস্তারিত
বয়সন্ধিজনিত কারনে কনে কর্তৃক বাল্যবিবাহ প্রত্যাখ্যান
আইনে কন্যার সুরক্ষা
আইনের সীমাবদ্ধতা
তথ্যসূত্র
সচরাচর জিজ্ঞাসা

বয়সন্ধিজনিত কারনে কনে কর্তৃক বাল্যবিবাহ প্রত্যাখ্যান
ক্স মুসলিম ধর্মীয় নারীদের ক্ষেত্রে যদি কোন নারী তার বয়:সন্ধি পূর্ব বিয়েকে অস্বীকার করেন;
ক্স যদি ঐ নারী স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করেন অর্থাৎ সহবাস না করেন;
ক্স যদি এ নারী ১৮ বৎসর পূর্ণ হবার আগে এবং তিন বৎসরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে বিয়ে অস্বীকার করতে 
         পারে।

আইনে কন্যার সুরক্ষা  
১৯৩৯  সালের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনে কি কি কারণে একজন স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিতে বা অস্বীকার করতে পারে তার সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। বিয়েতে সাবালকত্বের বয়স নির্ধারন সুস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অতএব ১৬ বছর পূূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যে কনের বিয়ে হয়েছিল,তার বয়স ১৬ বৎসর হবার পর এবং ১৮ বৎসর হইবার পূর্বে ৩ বৎসরের মধ্যে সে কনে বিবাহের কথা বা অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারে। তবে এখানে শর্ত যে,ঐ স্বামীর সাথে তার দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা চলবে না। এই আইন বিশেষভাবে নারীকে রক্ষা করেছে তার বাল্যবিবাহ হতে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়েকে। 

আইনের সীমাবদ্ধতা
এই আইনে বয়সন্ধি: এবং সহবাসের শর্ত এনে নারীর ইচ্ছার মূল্যকে প্রকারান্তরে অস্বীকার করেছে। যখন কোন নাবালক মেয়ের বিয়ে হয় তখন তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছার কোন আইনগত ভিত্তি থাকে না। ফলে বিয়ের পরে সহবাস তার ইচ্ছা নিরপেক্ষ নয় ফলে এই শর্তটি নারীত্বে অবমাননা। এছাড়া এই আইনে এই বিয়েকে অবৈধ বিয়ে হিসেবেও বলা হয়নি কেবলমাত্র শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। এই শাস্তির পরিমাণও খুবই নগন্য। বাল্যবিবাহ রোধ অথবা শিশু মেয়েকে রক্ষা করতে হলে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং যদি কেউ বাল্যবিবাহ করে,সহযোগীতা করে, কাজী হিসেবে বিয়ে স্থলে উপস্থিত থাকে ইত্যাদি ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে দৃষ্টান্তমূলক করা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র
১. রহমান,গাজী শামছুর,পারিবারিক আদালত আইন,খোশরোজ কিতাবমহল:ঢাকা দ্বিতীয় সংস্করণ-১৯৯৮ (মার্চ)।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন.১. বিয়ের পর কোন মেয়ে বিয়ে অস্বীকার করতে পারে কি?

উত্তর. বিয়ের পর নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোন মেয়ে বা স্ত্রী বিয়ে অস্বীকার করতে পারে না। যদি বিবাহের কাবিননামায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতাপ্রদান করা হয় তাহলে একজন স্ত্রী স্বামীকে কারণ উল্লেখ পূর্বক তালাক দিতে পারে তবে বিয়েকে অস্বীকার করতে পারেন না। তবে ১৯৩৯ সালে বিয়ে-বিচ্ছেদ আইনের ৭ দফা অনুযায়ী কোন মেয়েকে যদি নাবালক অবস্থায় (১৬ বৎসরের নীচে) বিয়ে দেয়া হয় তাহলে ঐ মেয়ে ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার আগে, বিয়ের ৩ বৎসরের মধ্যে আদালতে বিয়ে অস্বীকার করতে পারে। তবে শর্ত থাকে যে, স্বামীর সাথে সহবাস করলে আর বিয়ে অস্বীকার করা যাবে না।

প্রশ্ন.২. বয়সন্ধি:কাল বলতে কি বুঝায়?

উত্তর. বয়সন্ধি:কাল হলো একজন মেয়ের ঋতুস্রাব হওয়া। পূর্বে এই বয়সন্ধি:কালকেই সাবালক হিসেবে ধরা হতো।

    

মন্তব্যসমূহ